Modi, BJP, Congress, তামিলনাড়ুতে বিজয়ের পাশে রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসকে বিশ্বাসঘাতক ও পরজীবী বলে কটাক্ষ মোদীর

আমাদের ভারত, ১০ মে: দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে অদ্ভুত বৈপরীত্যের ছবি ধরা পড়েছে। চেন্নাইয়ে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সি বিজয় যখন শপথ নিচ্ছেন তখন তার পাশে সরকারের অংশীদার হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন রাহুল গান্ধী। ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রতিবেশী রাজ্য কর্ণাটক থেকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। বেঙ্গালুরুতে বিজেপির কর্মিসভায় কংগ্রেসকে পরজীবী ও বিশ্বাঘাতক বলে কটাক্ষ করেন নরেন্দ্র মোদী।

তামিলনাড়ুতে দীর্ঘদিনের জোট সঙ্গী ডি এম কে ছেড়ে বিজয়ের দল টিবিকে’র হাত ধরেছে কংগ্রেস। এই প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, কংগ্রেস একটি পরজীবী দলে পরিণত হয়েছে। লুটের টাকা নিয়ে কামড়া- কামড়ি করছে। সুযোগ পেলেই তারা নিজেদের সঙ্গী ত্যাগ করতে প্রস্তুত। এমন কোনো দল নেই যাকে কংগ্রেস পিছন থেকে ছুড়ে মারেনি।

প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, গত ৩ দশক ধরে বিভিন্ন সঙ্কটের সময় ডি এম কে কংগ্রেসকে সাহায্য করেছে। ইউপিএ ১ এবং ইউপির ২ সরকারের সময় যখনই কংগ্রেস বিপদে পড়েছে, ডি এম কে তাদের উদ্ধার করেছে, কিন্তু ক্ষমতার লোভ এবং রাজনীতির হাওয়া বদলাতে কংগ্রেস তার পুরনো বন্ধুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল।

বেঙ্গালুরু শহর থেকে কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন মোদী। তাঁর দাবি, আভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণে এই সরকার সুশাসন দিতে ব্যর্থ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপ মুখ্যমন্ত্রী ভিকে শিবকুমারের টানা পোড়েন নিয়ে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, গত তিন বছর ধরে কর্ণাটকে মানুষের সমস্যা সমাধানের বদলে সরকার অধিকাংশ সময় কাটিয়েছে নিজেদের বিবাদ মেটাতে। কে কতদিন মুখ্যমন্ত্রী থাকবে, নাকি অন্য কেউ সুযোগ পাবেন সেটা নিয়েই সব ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কংগ্রেসের অভিধানে সুশাসন বলে কিছু নেই। তাদের গ্যারান্টি যেমন মিথ্যে তারা নিজেরাও তেমন মিথ্যাবাদী। সেই কারণে ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়।

বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার এই সময় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ’কে রাজনৈতিক দায়িত্ব ও উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বেঙ্গালুরু থেকে এবার গেরুয়া সূর্য উঠছে এবং বিজেপির রাজনৈতিক প্রভাব দেশজুড়ে বাড়ছে। নিজের দলের মডেলের সাফল্যের উদাহরণ দিতে গিয়ে পদুচেরিতে টানা দ্বিতীয়বার এন ডি এর ক্ষমতায় ফেরা, অসমে পুনরায় সরকার গঠন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক উত্থান এবং গুজরাটে স্থানীয় নির্বাচনে বিপুল জয়ের কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে এই নির্বাচনী ফলাফলগুলি প্রমাণ করে যে, দেশের মানুষ এখন নির্ণায়ক রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকেই ঝুঁকে পড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *