আমাদের ভারত, ৭ ডিসেম্বর: ক্ষমতায় এলে কৃষিক্ষেত্রে সংস্কার করবেন, ভোটের আগে এমনটাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিরোধীরা। কিন্তু বিজেপি সরকার সে কাজ যখন করছে তার বিরোধিতা করছেন তারা। আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন বিরোধীরা। সোমবার এমনটাই বলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ।
মঙ্গলবার ভারত বনধের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত কৃষকরা। কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে এই ধর্মঘট কে সমর্থন করেছেন বিরোধীরা। আর একেই বিরোধীদের দ্বিচারিতা বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন এই দ্বিচারিতা লজ্জাজনক।
এদিন কংগ্রেসের চূড়ান্ত সমালোচনা করে রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, ক্ষমতায় থাকলে কংগ্রেস বেসরকারিকরণ করে। তারা ১৯-র লোকসভা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন ক্ষমতায় এলে এপিএমসি আইন বাতিল করবে। মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন অনেক কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে চুক্তির ভিত্তিতে চাষ করা চালু হয়েছিল।
বিজেপি নেতা বিএল সান্তোষ একটি পুরানো সংবাদপত্রের পাতার ছবি টুইট করেছিলেন। ট্রিবিউন টুডে নামে পাঞ্জাবের ইংরেজি খবর কাগজের হেডলাইন ছিল গম চাষের ক্ষেত্রে কর্পোরেটদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হোক দাবি কৃষকদের। বিজেপি নেতা লেখেন এটা ২০০৮ সালে পাঞ্জাব হরিয়ানা কৃষকরাই তখন দাবি করেছিলেন কৃষি মার্কেটিং এ কর্পোরেট প্রবেশিকার দেওয়া হোক। ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী শরদ পাওয়ার রাজ্যগুলির কাছে আবেদন করেছিলেন, বেসরকারি কৃষি বাজারের জন্য তিনি সেসময় মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে চিঠিতে লিখেছিলেন বর্তমানে এপিএমসি আইন সংশোধনের কোন প্রয়োজন নেই পুরনো আইন যা আছে, তাতে কৃষি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আরো বাড়বে। কৃষকদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা বাড়বে।
প্রায় দুসপ্তাহ হতে এলো আন্দোলনকারী কৃষকরা দিল্লি অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। নতুন কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবিতে কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি। পরবর্তী বৈঠক হবে বুধবার।
বিজেপির তরফে বারবার দাবি করা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে যারা কৃষক তারা সরকারের সাথে আছেন, কৃষি বিলের সমর্থন করছেন। যারা প্রতিবাদ বিক্ষোভ করছেন তারা বিরোধী তথা কংগ্রেস দলের দ্বারা প্রভাবিত। অনেক বিজেপি নেতা দাবি করেছেন এই আন্দোলনকারীরা খালিস্তানি।

