আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১০ ফেব্রুয়ারি: হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের সেফহোমে ডিউটি দেওয়ার প্রতিবাদে বিএমওএইচকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে গ্রামবাসীরা বিএমওএইচকে ঘেরাও মুক্ত করেন। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের শীতলগ্রাম প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।
দীর্ঘদিন থেকে ধুঁকতে থাকা ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তিন সপ্তাহ আগে নিলাঞ্জনা সাহা নামে এক মহিলা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক কাজে যোগদান করেন। কয়েক দিনেই গ্রামবাসীদের ভালো চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে মানুষের মন কেড়ে নেন। এরকম একজন জনদরদি চিকিৎসককে হঠাৎ করে সেফ হোমে ডিউটিতে পাঠানোর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন গ্রামবাসীরা। বুধবার ওই চিকিৎসক অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের বিএমওএইচ সুরজিত কর্মকার শীতলগ্রাম স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলে গ্রামবাসীরা ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। খবর পেয়ে সেখানে যায় নলহাটি থানার পুলিশ। তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ওই চিকিৎসককে বদলি করা হবে না আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ উঠে যায়।
গ্রামের বাসিন্দা আশিস সিংহ, অধীর মণ্ডলরা বলেন, “ওই চিকিৎসক কাজে যোগদান করেই মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। হাসপাতালে ওষুধ ছিল না। নিজের পয়সা খরচ করে ওষুধ কিনেছেন। জলের রিজার্ভার অপরিস্কারে ছিল। সেটাও নিজে করিয়েছেন। তারপরও চক্রান্ত করে তাকে সেফ হোমে ডিউটি করতে পাঠানো হচ্ছে। ওই চিকিৎসকের আটদিনের হাজিরা কেটে দেওয়া হয়েছে। তারই প্রতিবাদ করেছিলাম আমরা”।
বিএমওএইচ সুরজিৎ কর্মকার বলেন, “প্রত্যেককে সেফ হোমে ডিউটি করতে হবে। সেই মতো উনাকেও ডিউটি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উনি যাননি। তাই উনার আট দিনের ডিউটি কাটা হয়েছিল। আমিও চাইব কেউ ভালো পরিষেবা দিয়ে থাকলে তিনিই থাকবেন। কিন্তু এদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে আমি উনাকে দেখতে পাইনি”।
মোবাইলে ফোন করা হলে চিকিৎসক নিলাঞ্জনা সাহা না ধরায় তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

