সিআরপিএফের পশ্চিমবঙ্গ সেক্টরের ডেপুটি কমান্ডেন্ট দিলীপ মালিককে শৌর্য চক্র পুরস্কারে সম্মানিত করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ

আমাদের ভারত, ৩১ মে: মাওবাদীদের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সাথে লাগাতার লড়াই চালিয়ে যাওয়া, বেশকিছু মাওবাদীকে আত্মসমর্পণ করানোর মতো একাধিক কাজ নিজের ৩০ বছরের কর্মজীবনে সফলভাবে করেছেন সিআরপিএফের পশ্চিমবঙ্গ সেক্টরের ডেপুটি কমান্ডেন্ট দিলীপ মালিক। তবে ২০১৮-র ২৫ জুলাই বিহারের ঔরঙ্গাবাদের মাওবাদীদের বিরুদ্ধে এক সফল অভিযান চালিয়ে তিন জন মাওবাদীকে নিকেষ করেন। তার এই বীরত্বের জন্য মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে শৌর্য চক্র সম্মানে সম্মানিত করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

৭৩ তম প্রজাতন্ত্র দিবসে দিলীপ মালিকের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল শৌর্য চক্র পুরস্কারের জন্য। ২০১৮ সালে গয়াতে পোস্টিং থাকার সময় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ অভিযানে গিয়ে তিন মাওবাদীকে নিকেষ করেন দিলীপ মালিক। তার এই বীরত্বের কথা মনে রেখেই তাকে শৌর্য চক্র পুরস্কারের সম্মান জানানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ দিলীপ মালিককে সম্মানিত করেন। এদিনের অনুষ্ঠানে অনেক বিশিষ্ট অতিথিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সকলেই ডেপুটি কমান্ড্যান্ট দিলীপ মালিককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

১৯৭৩ সালের ১ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার হরিপালের জগৎনাথপুরে জন্মান সিআরপিএফের এই সাহসী আধিকারিক দিলীপ মালিক। ১৯৯০ সালের ১৭ জুলাই তার কর্মজীবনে প্রবেশ। সিআরপিএফের সাব ইন্সপেক্টর পদে তিনি কাজে যোগ দেন। কাজের প্রতি একাত্মতা, কঠোর পরিশ্রমের কারণে ১৯৯৮ এর ১৫ এপ্রিল তিনি ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হন। এরপর ২০০৬ সালে সহকারি কমান্ডেন্ট, ২০১৩ সালে কমান্ড্যান্ট পদে উন্নীত হন। ২০২০ থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গ সেক্টরে ডেপুটি কমান্ড্যান্টের দায়িত্ব নিয়ে কাজে যোগ দেন। তার উপর এই সেক্টরের পিআরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাকে ইন্টালিজেন্স বিভাগের দায়িত্বও দেওয়া হয়।

৩০ বছরের কর্মজীবনের মধ্যে ২১ বছর ছত্তিশগড়, ঝাড়খন্ড, মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলি, বিহারের একাধিক মাও অধ্যুষিত এলাকা সহ জম্মু কাশ্মীরের মতো অতি সংবেদনশীল এলাকায় সাহসিকতার সাথে কাজ করেছেন। ১৫৬ বিএন- এ পোস্টিং থাকাকালীন তিনি বেশকিছু মাওবাদীকে আত্মসমর্পণ করিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে ২১ জন মাওবাদীকে আত্মসমর্পণ করানোর ক্ষেত্রে তার বড় ভূমিকা ছিল। মাওনেতা কিষেনজির এনকাউন্টারেও তার ভূমিকা ছিল। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ২০০ জন মাওবাদীকে আটক করতে তিনি প্রধান ভূমিকা নিয়েছিলেন।

তার কঠোর পরিশ্রমের জন্য তাকে শৌর্য চক্র পুরস্কার ছাড়াও মেধাবী সেবা পদক, অতি উৎকৃষ্ট সেবা পদক, বীরত্বের জন্য পুলিশ পদক, ডিজির প্রশংসা ডিস্ক প্রদান করা হয়েছে। তিনি একজন সম্মন্বয়কারী আধিকারিক হিসেবেও বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *