Prayer, Red Road, এবার থেকে বন্ধ হয়ে যেতে পারে রেড রোডে নমাজ পড়া, কোথায় হবে বিকল্প ব্যবস্থা?

আমাদের ভারত, ২০ মে: রেড রোড চত্বরে ইদের নমাজ পড়ার মতো একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান তৃণমূলের জমানায় একটি রাজনৈতিক উচ্চতা পেয়েছিল বললে ভুল বলা হবে না। তবে এবার সেই রেড রোডে আর নমাজ পড়া হবে না বলে শোনা যাচ্ছে।

বাংলার প্রাক্তন দুই বাম মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কখনো ইদের নমাজের মঞ্চে যাননি। কিন্তু তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে এক অলিখিত রেওয়াজে পরিণত করেছিলেন। মাথায় কাপড় দিয়ে প্রতিবছর ইদের সকালে রেড রোডে নমাজ মঞ্চে উঠে পড়তেন। আর সেই ছবি সংবাদ মাধ্যমে ছেয়ে যেত। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তিনি তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এই মঞ্চে নিয়ে আসা শুরু করেছিলেন। তবে ২০২৬- এর মে মাসে দাঁড়িয়ে সেই চেনা ছবিটা এবার অতীত হতে চলেছে।

বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মুখ্যমন্ত্রী নেই। ফল এবার ইদের দিনে আমন্ত্রিত হিসেবে সেখানে তিনি যাবেন কিনা এখন পরের প্রশ্ন। এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন এবার আদৌ কি রেড রোডে ইদের নমাজ পড়ার অনুমতি মিলবে? এই অনুমতি দেয় সেনাবাহিনী।

সামনেই বকরি ইদ। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই পশু বলি নিয়ে পূর্ববর্তী সমস্ত নিয়ম ও নির্দেশিকা অত্যন্ত কঠোরভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। নতুন পরিস্থিতির মধ্যেই রেড রোডে নমাজ বন্ধ হওয়ার জল্পনা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজ্য সরকার বদলের পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, ব্যাপারটা তেমন নয়। কারণ রেড রোড সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে সেনাবাহিনীর হাতে। সেখানে যে কোনো বড় অনুষ্ঠানের জন্য ফোর্ট উইলিয়ামের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক।

সেনা সূত্রের খবর, গত বছরের নমাজের প্রধান আয়োজক সংস্থা খিলাফত কমিটিকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল নিরাপত্তার স্বার্থে রেড রোডে আর নমাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সেই সময় সেনার কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে সেবার শেষবারের মতো ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু এবার রাজনৈতিক চাপ বা অনুরোধের সুযোগ না থাকায় সেনাবাহিনী তাদের পুরনো সিদ্ধান্তে অটল থাকতে চলেছে বলেই খবর। যদি সেনাবাহিনী রেড রোডে নমাজের অনুমতি না দেয় তবে বিপুল সংখ্যক মুসলিমদের জন্য বিকল্প জায়গার বন্দোবস্ত কোথায় হবে?

ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিককে স্বাধীনভাবে ধর্মাচরণের অধিকার দেওয়া হয়েছে, ফলে এত বড় জমায়েতের জন্য একটি বিকল্প নিরাপদ জায়গার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব এখন নবান্নের নতুন প্রশাসনের ওপর।

নবান্ন সূত্রে খবর, এই বিষয়ে ইতিমধ্যে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের কথাবার্তা শুরু হয়েছে। ফোর্ট উইলিয়াম যদি রেড রোডে সিদ্ধান্তে অনর থাকে তবে বিকল্প হিসেবে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ইদের নমাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে খিলাফত কমিটিকেও আগাম বার্তা দিয়ে রাখা হয়েছে।

নবান্ন সূত্রে খবর, ব্রিগেডের মাঠে বড় কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন এই প্রথম নয়। এর আগে বাম বা তৃণমূল জমানায় ব্রিগেডে বহু ধর্মীয় সমাবেশ হয়েছে। ফলে আইন- শৃঙ্খলা সহ সমস্ত দিক দিয়ে ব্রিগেডের মাঠে ইদের নমাজের বিকল্প ব্যবস্থা করাটা প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে সুবিধা জনক ও বাস্তব সম্মত পথ।

রাজ্যে ক্ষমতায় এসে যখন একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। তখন কলকাতায় এই ধর্মীয় সমাবেশের স্থান বদল আগামী দিনে কিভাবে প্রভাব ফেলতে চলেছে সেদিকে নজর সবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *