জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২৫ আগস্ট: প্রায় ৫২ -৫৩ বছর আগে এই অঞ্চলের বুদ্ধিজীবী, উদ্যোগী ব্যক্তিদের প্রচেষ্ঠায় এবং গ্রামবাসীদের স্বতস্ফূর্ত সহযোগিতায়, জমিদাতাদের আত্মত্যাগ এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রয়াত অজিত পাঁজার সহযোগিতায় খেমাশুলি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছিল। এমনকি তাদের অনশনও করতে হয়েছিল। তখন থেকেই ২৫ বেডের এই হাসপাতাল হিজলি গ্রামীন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অধীনে রয়েছে। কংগ্রেস আমলে শুরু হয়ে বামফ্রন্ট আমল পেরিয়ে বর্তমান তৃণমূল আমল। অনেক ইতিহাস, অনেক সংগ্রামের সাক্ষী এই হাসপাতাল বার্ধক্যের পথে। অবহেলায় আজও জর্জরিত। আগাছায় ভর্তি হাসাপাতাল চত্বর। নেই বাউন্ডারি।

খেমাশুলি গ্রামের অবস্থান ভৌগলিক দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাম ঘেঁষে চলেছে এনএইচ ৬ (কলকাতা মুম্বাই জাতীয় সড়ক) এবং দক্ষিণ পূর্ব রেল। কাছের রেল স্টেশন খেমাশুলি। এখানে চিকিৎসা করাতে আসে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর ১ ব্লক এবং ঝাড়গ্রাম জেলার ঝাড়গ্রাম ও সাঁকরাইল ব্লকের মানুষ। এখান থেকে খড়গপুর মহকুমা হাসপাতাল প্রায় ২৫ কিমি, হিজলি গ্রামীন হাসপাতাল প্রায় ২৪ কিমি, মেদিনীপুর জেলা হাসপাতাল প্রায় ৩৫ কিমি, ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতাল প্রায় ৩২ কিমি এবং সাঁকরাইল ভাঙাগড় গ্রামীন হাসপাতাল প্রায় ২৫ কিমি দূরে অবস্থিত।
এই হাসপাতালের দূরবস্থার জন্য বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ সঠিক ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকুও পায় না। কলাইকুন্ডা- খেমাশুলি- গুপ্তমণি এই ১০ কিলোমিটার হল দুর্ঘটনা প্রবন এলাকা। এখানে এনএইচ ৬ এর উপর প্রায় প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। সঠিক সময়ে সামান্য প্রাথমিক চিকিৎসার অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে।
সরকার যদি পুনরায় এই হাসপাতালটিকে সচল করতেন, ২৪ ঘন্টা ডাক্তার এবং বেডের ব্যবস্থা করা যদি করা যেত তাহলে এই পিছিয়ে পড়া, গরিব তপশিলি জাতি উপজাতি প্রধান অঞ্চলের মানুষগুলির উপকার হত। এখানে হোমিওপ্যাথি ডিস্পেন্সারি চালু হয়েছিল সেটাও আজ ২ বছর ধরে বন্ধ।
এব্যপারে খেমাশুলি ও পাশ্ববর্তী এলাকার মানুষের দাবি, সরকার যেন এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।


