সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৬ মে: উত্তর ২৪ পরগনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ৩৩টি বিধানসভার মধ্যে ২৪টি বিজেপির দখলে চলে যাওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে খবর। অভিযোগ উঠেছে, দলের কর্মীদের একাংশ তৃণমূলের স্থানীয় কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই ক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীদের একাংশ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় পার্টি অফিসে ভাঙ্গচুর চালাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, সংগঠনের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ থাকলেও তা গুরুত্ব পায়নি, বরং কিছু নেতা ব্যক্তিস্বার্থে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ। বনগাঁ পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৌসুমী চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছে তৃণমূলের কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, এই কাউন্সিলর চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রচুর কর্মীদের কাছ থেকে টাকা তুলেছে। এছাড়া এলাকায় জমি দখল, এক যুবতীকে খুনের প্ররোচনা, ভোটের আগে এলাকায় হুমকি দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এনেছেন।
এক কর্মী বলেন, প্রাক্তন খাদ্য মন্ত্রীর অনুগত এই মৌসুমী। তাঁর স্বামী সামান্য দিনমজুরের কাজ করতেন। দুবার কাউন্সিলর হয়ে আজ কোটি টাকার মালিক। পৌরসভা নিয়োগে একাধিক যুবকদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে চাকরি দিয়েছে। দলের কার্যালয়ে মদের আসর চালাতেন মৌসুমী সহ তাঁর অনুগতরা। ভোট গণনার আগের দিন বিজেপি কর্মীদের খুন করার হুমকি দেয়। তাঁর জেরেই তৃণমূল কর্মীরা তার পার্টি অফিসে হামলা চালায়। যদিও তিনি এখন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানাগিয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপি নেতা সোভন ভদ্র বলেন, বিরোধীদের চক্রান্তে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

