সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৮ মার্চ: দু’দিনের ধর্মঘটে আংশিক সাড়া পড়ল পুরুলিয়া জেলায়। তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের তৎপরতায় প্রথম দিনের বনধে সচল থাকল খনি ও কারখানা। তবে, ব্যাঙ্ক, ডাকঘর, টেলিফোন দফতর, গণ পরিবহন প্রায় অচলই রইল। ব্যতিক্রম বলতে কিছু সরকারি বাস চলাচল করল দিনভর।

বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার বনধের সকালের দিকে পুরুলিয়া জেলায় মিছিল পাল্টা মিছিলে তাপমাত্রা বাড়ালেও পুলিশ তৎপর থাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারেনি বেশিক্ষণ। বনধের সমর্থনে সিপিএমের কার্যালয় থেকে সকাল ৮.৩০ টায় মিছিল বের হয়। সেই মিছিল মেইন রোড দিয়ে সদর হাসপাতাল মোড়ের দিকে যাওয়ার সময় এবং জেলা আদালতের কাছে বনধের বিরুদ্ধে বের করা পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিলের মুখোমুখি হয়। যদিও স্লোগান পাল্টা স্লোগানের মধ্যে দিয়েই মিছিল চলে যায়। মৃদু উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখা দেয়। পরে এই কর্মানাশা বনধের সমর্থনে পুরুলিয়া হেড পোস্ট অফিসের মূল গেট বন্ধ করে বেশ কয়েকজন বনধ সমর্থনকারী বসেছিলেন। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা জোর করে গেট খুলে দেন। পাশাপাশি স্টেট ব্যাঙ্কের গেটে এসে বিক্ষোভ দেখান।
তৃণমূলের মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া স্থানীয় পুরসভার কাউন্সিলর বিভাস দাস বলেন, “এই কর্মনাশা বনধ তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনই সমর্থন করেননি। মানুষের রুটি রোজগার বন্ধ করে কোনো ভাবেই আমরা এই বনধ সমর্থন করছি না। করোনাকালে মানুষ খুব সমস্যায় ছিল। তারপরে এই বনধ মানুষ সমর্থন করছে না। আমরা মানুষের পাশে আছি আমরা মানুষকে বুঝিয়ে বলছি দোকানপাট খোলার জন্যে। আমরা আশ্বাস দিয়েছি কোনো রকম ঝামেলা হলে তা আমরা সামনে থেকে লড়াই করবো।

সিপিএমের জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায় বলেন, ১২ দফা দাবিতে এই বনধ। সম কাজে সম বেতন। রেল, ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে এই বনধ। কৃষকদের ফসলের ন্যায্য মূল্য দিতে হবে। আগের বনধকে গোটা দেশে ২৫ কোটি মানুষ সমর্থন করেছিল। এই বনধকে আরো বেশি মানুষ সমর্থন করবে। পুরুলিয়াবাসী স্বতঃফূর্তভাবে সমর্থন করেছেন।”
পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর মহকুমার খনি অঞ্চলে সকাল থেকে শ্রমিক ও কর্মীদের কাজে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে। আইএনটিটিইউসি’র শাখা সংগঠনগুলোর নেতৃত্বরা এই বিষয়ে তৎপর ছিলেন।

