পাড়ার জোড়বেড়িয়া গ্রামের বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক চেয়ে বিক্ষোভ অভিভাবক ও পড়ুয়াদের

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৮ সেপ্টেম্বর: বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক চেয়ে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা। আজ পুরুলিয়ার পাড়া ব্লকের অন্তর্গত জোড়বেড়িয়া জুনিয়ার হাই স্কুল চত্বরে বিক্ষোভ দেখিয়ে অবিলম্বে পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানালেন গ্রামবাসীরা। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আন্দোলনে সামিল হয় ওই স্কুলের পড়ুয়ারাও।

শিক্ষার হার বাড়িয়ে উন্নত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ২০১২ সালে জোড়বেড়িয়া গ্রামে জুনিয়ার হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠা হয়। ৪ জন শিক্ষক নিয়ে চলছিল পাঠ দান। শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। পরবর্তীকালে দুই জন শিক্ষককে তুলে নেওয়া হয়। পরিবর্তে কোনও নতুন শিক্ষক নিয়োগ করেনি শিক্ষা দফতর। করোনাকালে স্কুলে পঠনপাঠন না হলেও অফিস সংক্রান্ত কাজ ও মিড ডে মিল সহ নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন ওই শিক্ষকরা। এর মধ্যেই দুই জনের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সুধাংশু শেখরের আর্জি মতো শিক্ষা দফতর বদলির অনুমোদন করে দেয়। ওই স্কুলে একমাত্র শিক্ষক হয়ে পড়েন হারাধন মাজি। ১৪৫ জন পড়ুয়া আর একমাত্র শিক্ষক, এর সঙ্গে যাবতীয় কাজ রয়েছে। শিক্ষা দফতরের এই সিদ্ধান্ত প্রহসনে পরিণত হয়। বিষয়টি ভালো চোখে দেখছেন না অভিভাবক ও গ্রামবাসী। আর তাই পর্যাপ্ত শিক্ষক চেয়ে আজ স্কুলে বিক্ষোভ দেখালেন তাঁরা।

গ্রামবাসী চণ্ডী রায়, মৃত্যুঞ্জয় মুখার্জি বলেন, “এক জন শিক্ষককে দিয়ে চারটে ক্লাস নেওয়া এবং স্কুলের যাবতীয় কাজ করা সম্ভব নয়। এটা শিক্ষা দফতর জেনেও অনৈতিক কাজ করেছে। এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এই স্কুলে অন্তত পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পর্যাপ্ত শিক্ষক এখনই নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।” বিষয়টি জেলাশাসক, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক), অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক এমন কি বিডিওকেও তাঁরা জানিয়েছেন বলে দাবি করেন আজ। কিন্তু কোনও কাজ
হয়নি বলে আক্ষেপ গ্রামবাসীর।

এদিকে বদলি হওয়া ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দায়িত্ব হস্তান্তর না করতে পেরে দরবার হন প্রশাসনিক স্তরে। দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রশাসনিক দিক থেকে চাপ আসে সহ শিক্ষক হারাধন মাজির কাছে। তিনি চাপের কাছে নতি স্বীকার করলেও গ্রামবাসীরা তা মেনে নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *