বড়জোড়ায় জনরোষ, ভাঙ্গলো পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ি

আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৯ জুন: জনরোষ আছড়ে পড়লো পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে। তার প্রাসাদোপম বাড়িতে হামলা চালায় জনতা। আজ সকালে বড়জোড়ার ঘুটগড়িয়ায় এই ঘটনা ঘটে। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই তৃণমূলের‌ বড় বড় নেতা মন্ত্রীরা ডিম থেরাপিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে পঞ্চায়েত স্তরের নেতাদের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বিষ্ফোরণ ঘটছে, কোথাও আবার তা ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। শুক্রবার এমনই জনরোষ দেখা গেল বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকের ঘুটগোড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে।

বড়জোড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অলোক মুখার্জির অনুগামী পঞ্চায়েত প্রধান গণেশ মন্ডল পঞ্চায়েত প্রধান থাকার পাশাপাশি বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলের ঘুটগোড়িয়া শিল্প তালুকের স্বঘোষিত শ্রমিক নেতা হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০২১- এ অলক মুখার্জি বিধায়ক হতেই ঘুটগোড়িয়া শিল্প তালুকের কারখানা গুলোর দেখভাল শুরু করে গণেশ মন্ডল। আর এই বছর পাঁচেক দাপটে নেতা গিরি করে বড়জোড়া কলেজ স্কোয়ারে বিশাল বাড়ি করে ঘুটগোড়িয়া গ্রাম থেকে এখানে উঠে আসে। শুক্রবার সেই প্রাসাদোপম অট্টালিকায় জনরোষ আছড়ে পড়লো।

গণেশ মন্ডল বাড়িছাড়া থাকলেও বাড়িতে ছিলেন তার বৃদ্ধ বাবা- মা ও শাশুড়ি। বাড়ির সদর গেটে তালা দেওয়া থাকে সবসময়। এদিন সকাল এগারোটা নাগাদ প্রায় ২৫০ লোকের একটি মিছিল জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে দিতে গণেশ মন্ডলের বাড়ির সামনে এসে চোর, তোলাবাজ, শ্রমিকদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়া ভন্ড নেতা ইত্যাদি স্লোগান দিতে দিতে তালা ভেঙ্গে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। ইটপাটকেল ছুড়ে বাড়ির কাঁচের জানালা ভেঙ্গে ফেলে। আছড়ে ভাঙ্গা হয় ফুলের টব, বাহারি গাছের বাগিচা। এককথায় ভাঙ্গচুর চালিয়ে তছনছ করা হয়েছে গোটা বাড়ি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন বিজেপি নেতা সোমনাথ কর ও বড়জোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা বিজেপির গোবিন্দ ঘোষ। তারা উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে শান্ত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষোভকারীরা গণেশ মন্ডলের গ্রেফতারের দাবি করতে থাকে। পুলিশ তাদের আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তারা।

প্রভাত বাউরি নামে এক বিক্ষোভকারীর অভিযোগ, কিছুদিন আগে পর্যন্ত রঙ মিস্ত্রী ছিলেন গণেশ মন্ডল। ওর হাতে কী এমন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ আছে যে পাঁচ বছরের কম সময়ে কুঁড়ে ঘর থেকে অট্টালিকা হয়। প্রভাত বাউরি বলেন, গণেশ মন্ডলকে আমরাই নেতা বানিয়ে শ্রমিকদের সুবিধা- অসুবিধা দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কারখানার মালিকদের সঙ্গে আঁতাত করে শ্রমিকদের শোষণ করেছে। তাই অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে উঠেছে বিপুল সম্পত্তির মালিক। ঘুটগড়িয়া এলাকায় তার প্রাসাদোপম বাড়ি দেখলে রীতিমত চোখ আটকে যেতে বাধ্য। বিশাল এলাকা জুড়ে সুউচ্চ ও সুদৃশ্য বাড়ি, বাড়ির সামনের অংশে রয়েছে সুসজ্জিত বাগান ও লন।

বিজেপি নেতা সোমনাথ কর ও গোবিন্দ ঘোষ বলেন, এটা মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এদিন যেভাবে জনরোষ আছড়ে পড়েছিল ওই অট্টালিকার একটা ইটও আস্ত থাকতো না। তারা যদি খবর পেয়েও না আসতেন তাহলে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যেতো। গোবিন্দ ঘোষ বলেন, এইসব চোর জোচ্চর তৃণমূল নেতাদের জন্যই পশ্চিম বাংলার উন্নয়ন ১০০ বছর পিছিয়ে গেছে।

তৃণমূল নেতা গণেশ মন্ডলের বাবা মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল বলেন, তার ছেলে মানুষের জন্য দিনরাত পরিষেবা দেয়। বৌমা স্কুল শিক্ষিকা। চাষবাস আছে। বৌমা ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে এবং চাষের আয় থেকে এই বাড়ি হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ছেলের উপর আক্রোশ বশতঃ বাড়িতে ভাঙ্গচুর চালিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *