সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৪ জুলাই: অতিমারী পরিস্থিতিতে স্কুল বন্ধ থাকায় পড়ুয়াদের জন্য বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করে দিল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বাড়ি থেকেই মোবাইলের সাহায্যে আস্ত একটা অক্সিজেন ক্লাব পরিচালনা করবে পড়ুয়ারা। আক্রান্তরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ও সিলিন্ডার ব্যবহার করতে পারবেন। লোকেশ্বরানন্দ আই ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এবং গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদেদের পরিচালনায় জেলা তথা রাজ্যে এ ধরণের উদ্যোগ সম্ভবত প্রথম।
বিদ্যালয়ে রয়েছে শিশু সংসদ। প্রধান মন্ত্রী সহ পাঁচ জন মন্ত্রী রয়েছেন সেখানে। দৈনন্দিন বিদ্যালয় পরিচালনায় এই মন্ত্রীমন্ডলী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। করোনা আবহে মূলত তাদের হাতে দায়িত্বপূর্ণ কাজ তুলে দিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। আজ সেই অক্সিজেন ক্লাবের দ্বারোদ্ঘাটন করে মানবাজারের মহকুমাশাসক শুভজিৎ বসু জানান, করোনার তৃতীয় ঢেউ আসছে। এতে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হবে। সেক্ষেত্রে শিশুরা যেভাবে সমবয়সীদের জন্য এগিয়ে এসেছে তা অভিনন্দন যোগ্য। এই অভিনব উদ্যোগের সাথে যুক্ত সকলকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

প্রধান শিক্ষক অমিতাভ মিশ্র জানান, যে সূহৃদদের সাহায্যে কোভিডের প্রথম পর্যায়ে ৫১৪৯ টি পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী, ৫০৩ টি শবর পরিবারের সকলকে নতুন বস্ত্র, আটটি ব্লকের অপুষ্টিতে ভোগা ৫৪৬ জন বাচ্চাকে শিশু খাদ্য, ১৬০০ পরিবারকে কম্বল ও টুপি, ৩৬০ জনকে সোয়েটার, ২০০ জন শিশুকে শিক্ষাপোকরণ ও খাদ্যদ্রব্য, ৫১৭ জন বাচ্চাকে নানা রকমের খেলনা ও টুপি, ২০টি গ্রামের বাচ্চাদের ফুটবল ও ক্রিকেট সেট, ১০টি ক্লাবকে ফুটবল ও মাস্ক এবং পুজোর সময় ৫০০০ জনকে সাবান ও মাস্ক বিলি করা হয়েছে। কোভিদের দ্বিতীয় পর্যায়েও ইতিমধ্যে ১২০০ পরিবারের কাছে খাদ্যসামগ্রী, ১৯৫ জন বাচ্চাকে শিশু খাদ্য এবং ২২০ জন শবর ছেলে মেয়ের কাছে খাতা, পেনসিল ও শিশু খাদ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নানান সংস্থা ও সংগঠনের সাহায্যে বাকি পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর প্রয়াসও অব্যাহত আছে। আগামী দিনে বিদ্যালয়ে একটি সেফ হোম গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অক্সিজেন ক্লাবের দ্বারোদ্ঘাটন ও কোভিডে আক্রান্ত মানুষদের জন্য চক্ষু পরীক্ষা শিবিরে যারা সামিল হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ।
অনুষ্ঠানে মানবাজার ১ নং ব্লকের বিডিও মোনাজ কুমার পাহাড়ী যৌথভাবে এই অতিমারী রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ডা: উজ্জ্বল চৌধুরী, অর্মত্য দত্ত, মনোজিৎ বসু, সমীর দত্ত, আনন্দময় সেন, রামকৃষ্ণ নন্দী, শিবশঙ্কর নারায়ণ দেব, অশোক পাত্র প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শিবিরে ২১৮ জন রোগী চক্ষু পরীক্ষা করান।


