মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী বুলবুলি পাখির লড়াই গোপীবল্লভপুরে

অমরজিৎ দে, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ১৫ জানুয়ারি: ঐতিহ্যের কাছে হার মানলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। একদিন দেরিতে হলেও গোপীবল্লভপুরে হল মকর সংক্রান্তির ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বুলবুলি পাখির লড়াই। একেবারে অন্য স্বাদের ভিন্নধর্মী গোপীবল্লভপুরের এই বুলবুলির লড়াইতে নিজের বুলবুলি পাখি নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন ২০০ জন প্রতিযোগী।গোপীবল্লভপুরের বাজার সাই এবং দক্ষিণ সাই- এর এদিনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইতে মোট ১২ টি পাখিকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে জয়লাভ করল বাজার সাই’য়ের সুজিত বেরার বুলবুলি পাখি।

জানাগেছে, জঙ্গলমহলজুড়ে সাধারণত মোরগ লড়াইয়ের অধিক প্রচলন থাকলেও তা রক্তপাত যুক্ত। মোরগ লড়াইতে অংশগ্রহণকারী মোরগের প্রাণ হানির আশঙ্কা থাকে, তাই বৈষ্ণব ধর্মপ্রাণ শ্রীপাঠ গোপীবল্লভপুরবাসী প্রায় ৪০০ বছর আগে মকর সংক্রান্তির দিন বুলবুলি পাখির লড়াইয়ের প্রচলন শুরু করেন। এই লড়াইতে অংশগ্রহণকারী বুলবুলি পাখি পরাজিত হলেও কোনো রকম রক্তপাত কিংবা পাখির প্রাণ হানির আশঙ্কা নেই। তাই বৈষ্ণব তীর্থ গোপীবল্লভপুরের মানুষের কাছে আজও এই বুলবুলির লড়াই সমানে চলে আসছে। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তির দিন শ্রী পাট গোপীবল্লভপুরের উৎসাহী মানুষ সুবর্ণরেখা নদীতে মকর স্নান করে দুপুরবেলা প্রশিক্ষিত পাখিকে লড়াইয়ের ময়দানে নামান।

উদ্যোক্তাদের পক্ষে রাধাগোবিন্দ জিউ’য়ের মন্দির কমিটির সম্পাদক কল্যাণ বারিক জানান, প্রায় ১ মাস আগে থেকে পুষ্টিকর খাবার দিয়ে পাখিগুলোকে লড়াই’য়ের জন্য প্রশিক্ষিত করা হয়। তারপর মকর সংক্রান্তির দিন সকাল থেকে পাখিগুলোকে খাবার না দিয়ে রেখে দুপুরবেলা মন্দির চত্ত্বরে একটি টেবিলের উপর দুটি পাখিকে এনে সামনে খাবার দেখালে খাবার নেওয়ার জন্য লড়াইতে নেমে পড়ে। এই লড়াইতে যার পাখি ময়দান ছাড়ে তার পাখি পরাজিত হয়। পাশাপাশি যে পাখি সবথেকে বেশি পাখিকে পরাজিত করতে পারে সে হয় সমস্ত প্রতিযোগীর উইনার।

স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, দীর্ঘদিনের এই বুলবুলির লড়াই গোপীবল্লভপুর মন্দির চত্বরে মকর সংক্রান্তির দিন হলেও এবছর মকর সংক্রান্তির দিন ভোর থেকে অনবরত বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত দিনে বুলবুলি লড়াই হতে পারেনি। কিন্তু আবহাওয়া পরিষ্কার হতেই উৎসাহী মানুষজন মকর সংক্রান্তির পরের দিন শনিবার যথারীতি ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।

এবিষয়ে লড়াই দেখতে আসা গোপীবল্লভপুর দু’নম্বর ব্লকের জুনশোলা গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ পাল বলেন, এ বছর মকর সংক্রান্তির দিন এই ঐতিহাসিক লড়াই হয়নি তাই মনটা একটু খারাপ ছিল। ভেবেছিলাম এ বছর হয়তো আর বুলবুলির লড়াই দেখতে পাবো না।কিন্তু আজ দুর্যোগ কেটে যাওয়ার ফলে আবার লড়াই হবে খবর পাই তাই ছুটে এসেছি। প্রতিবছরই আমি লড়াই দেখতে আসি, এবারে করোনা পরিস্থিতির জন্য লোক সংখ্যা দেখছি অনেকটাই কম কিন্তু পাখি অনেক আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *