আমাদের ভারত, ১৯ এপ্রিল: রাজনীতির রণক্ষেত্রে যখন লড়াই তুঙ্গে তখন মোদী দিলেন ঝালমুড়ি কূটনীতি’র চা। রোজকার প্রচারের চাপকে একটু হালকা করতে মেজাজকে একটু ফুরফুরে করতে বঙ্গে এসে এবার
ঝাল মুড়ির দোকানে ঢুুঁ মারলেন প্রধানমন্ত্রী।
পশ্চিমবঙ্গের স্ট্রিট ফুডের মধ্যে অন্যতম হলো ঝাল মুড়ি। তাই রাজ্যে বিধানসভা ভোট প্রচারে এসে চুড়ান্ত প্রচার কাজের মধ্যে রাজপথ থেকে পাড়ার মোড়ে ঝাল মুড়ির দোকানে ঢুকে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। দশ টাকার ঝাল মুড়ির ঠোঙায় যে রাজকীয় ক্যামেরা মোমেন্ট ধরা দেবে তা সাংবাদিক থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার বা আম জনতা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে নির্বাচনী জনসভা শেষে হেলিপ্যাডে ফেরার পথে মোদী রাজ কলেজ মোড়ের একটি রাস্তার ধারের দোকানে আচমকাই দাঁড়িয়ে পড়েন। একটি দোকান থেকে মুড়ি কিনতে এগিয়ে যান। সেই সময় আবার দোকানি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন তিনি পেঁয়াজ খান কি না। মোদী মুচকি হেসে জবাব দেন, পেঁয়াজ খাতাহে। একটু থেমে আবার বলেন, লেকিন দিমাগ নেহি খাতা হ্যায়, অর্থাৎ পেঁয়াজ খাই, মাথা খাই না। তারপরই দেখা যায় বাংলার অন্যতম পপুলার স্ট্রিট ফুড ঝাল মুড়ি বেশ আয়েশ করেই খাচ্ছেন মোদী। ওই সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। জনসংযোগ স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভোট মরসুমে বঙ্গে রাজনীতির সঙ্গে রান্নাবান্নার সম্পর্ক বেশ পুরনো। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দেখা গেছে ঝাঁঝড়ি নাড়িয়ে চপ ভাজতে। রাস্তার ধারে চায়ের দোকানে পরম যত্নে চা বানাতে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা কোথাও মাছ কেটেছেন, কোথাও রুটিও বেলেছেন। কিন্তু এবার এই সব প্রচারের লাইম লাইট একেবারে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দিলেন নরেন্দ্র মোদী। প্রচারের কনভয়ে থামিয়ে ঝাল মুড়ির দোকানে পা রাখতেই নিরাপত্তারক্ষীদের কপালে ভাঁজ পড়লো, কিন্তু আম জনতার চোখে মুখে ছিল অবাক করা বিস্ময়।
দোকানির হাতে ১০ টাকার কড়কড়ে নোট দিয়ে এক ঠোঙা ঝালমুড়ি নিলেন প্রধানমন্ত্রী। মুড়ির সাথে মাখা সরষে তেলের ঝাঁঝ এবং কাঁচা লঙ্কার ঝালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ তখন উজ্জ্বল। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক শিশুর দিকে মুড়ির ঠোঙা বাড়িয়ে দিলেন তিনি। কেবল শিশু নয়, পাশে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন নিজের খাবার।
প্রধানমন্ত্রীর শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং ইমেজ দেখে পথ চলতি মানুষ থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম। অন্যদিকে বিরোধীরা এই বিষয়টিকে গিমিক বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। ঝাল মুড়ির মশলার গন্ধ ছাপিয়েছে মোদীর এই ঘরোয়া অবতার। আসলে বাংলার নারি বুঝতে গেলে বাংলার খাবারের অলিগলিতে ঘুরতে হয়। এবার দিল্লিতে থাকা রাজনীতিকরাও সেটা বুঝে গেছেন। চপ, মুড়ি, চা যে বঙ্গের ভোট ময়দানে অভিন্ন সঙ্গি সম্ভবত সেটাও উপলব্ধি করেছেন তারা। ফলে ভোট যুদ্ধের ময়দানে মোদীর এই মুড়ি কুটনীতি শেষ পর্যন্ত ইভিএমে কতটা প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলবে। তবে দশ টাকার ঝালমুড়ি নিয়ে আপাতত বঙ্গ রাজনীতি চুড়ান্ত সরগরম।

