অভিজিৎ সরকারের দেহ হস্তান্তরে ইচ্ছাকৃত ঢিলেমির অভিযোগে বচসা ধাক্কাধাক্কি, হোমগার্ডকে চড় বিজেপি নেতা দেবদত্ত মাজির, সমর্থন দিলীপ ঘোষের

আমাদের ভারত, ৯ সেপ্টেম্বর:আদালতের নির্দেশে কাঁকুড়গাছির নিহত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের দেহ হস্তান্তর ঘিরে এনআরএসে মর্গের চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় আজ। বিজেপির অভিযোগ ইচ্ছে করে দেহ হস্তান্তরে ঢিলেমি করা হয়, হাসপাতালে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় দলের নেতাদের, বাজে ভাষায় কথা বলে সেখানকার হোমগার্ড। ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়, তখনই হাসপাতালের হোমগার্ডকে সপাটে চড় মারেন বিজেপি নেতা দেবদত্ত মাজি। এই ঘটনাকে সমর্থন করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, বেশ করেছে চড় মেরেছে, তুই তোকারি করার অধিকার নেই হোমগার্ডের। তার অভিযোগ সবটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে হয়েছে।

আদালত গতকাল নির্দেশ দিয়েছে অভিজিৎ সরকারের দেহ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দিতে। সকাল ১০টায় সেই মতো হাজির হন বিজেপি নেতা কর্মী ও পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু হাসপাতালে বিজেপি নেতাদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। জানানো হয় নারকেলডাঙা থানা থেকে এনওসি আসেনি। ফলে দেহ দেওয়া যাবে না। এই বিষয়ে হাসপাতালের সুপারের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাতে বাধা পেতে হয়। তখনি শুরু হয় কথা কাটাকাটি, বিজেপির অভিযোগ, ডিউটিতে থাকা হোমগার্ড বাজে ভাবে কথা বলে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে। উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেই সময় হোমগার্ডকে চড় মারেন বিজেপি নেতা দেবদত্ত মাজি, বলে অভিযোগ। তিনি পরে বলেন পরিস্থিতি এমন তৈরি হয়েছিল যে আত্মরক্ষার্থে হয়তো ওই কাজ হয়েছে। এনওসি নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে টালবাহানার অভিযোগ করেছে বিজেপি। এমনকি দেহ লোপাটের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন অভিজিৎ এর পরিবারের সদস্যরা। সকাল ১০টায় দেহ হস্তান্তরের কথা থাকলেও দুপুর সাড়ে বারোটাতেও কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।

পুলিশের গায়ে হাত তোলার প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দেবদত্ত মাজি বলেন, “পুলিশ ধাক্কাধাক্কি করেছে, বাজে ভাষায় কথা বলেছে। আমাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করা হয়েছে যেনো আমরা কিছু খারাপ কাজ করেছি। ২০১২ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সার্জেনকে চড় মেরেছিলেন। তার যে শাস্তি হয়েছিল আমারও তাই হবে।” তিনি আরও বলেন,”ইচ্ছাকৃতভাবে মারা হয়নি ওখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ বাজে ব্যবহার করছিল পশ্চিমবঙ্গের আইন বিজেপি ও হিন্দুদের জন্য নয়। যদি ঘটনা আদালতে পৌঁছয় তাহলে সেটা সেখানেই বুঝে নেব।”

ঘটনায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “একজন মৃত ব্যক্তির দেহ দেওয়া হচ্ছে না। ময়নাতদন্ত করতে দেওয়া হচ্ছে না। এটা কি মানবিকতা? সরকারের গালে থাপ্পড় মারা উচিত। হোমগার্ডকে মেরেছে ঠিক করেছে। এদের সামান্য মানবিকতা নেই। মেরে ফেলেছে, তাঁর প্রতি সম্মান টুকুও নেই।” হুঁশিয়ারির সুরে দিলীপ ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন কেউ মারা যায়নি। ৫৫-৬০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। হোম গার্ডের এত ক্ষমতা কিসের? তার কি অধিকার আছে আমার দলের বিধায়ক পদপ্রার্থীকে তুই তোকারি করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে নাকি? চাকরিতে সারাজীবন থাকবে না। আমাদের কর্মীরা থাকবেন। সে কি পাড়ায় রাস্তায় বের হবে না?”

সকাল থেকে এনআরসে উপস্থিত হয়েছিলেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং, প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল, সজল ঘোষ, দেবদত্ত মাজি সহ একাধিক নেতা কর্মীরা।‌ প্রথম থেকেই তাদের হাসপাতালে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এরপর অভিজিৎ সরকারের দেহ আনার জন্য যখন তাঁর দাদা বিশ্বজিৎ সরকার ও পরিবারের সদস্যরা পৌঁছন তখন উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। উত্তেজনার জেরে হাসপাতালে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। অভিজিত সরকারের দেহ হস্তান্তরের পরে সেটি দলের সদর দপ্তর মুরলীধর সেন লেনের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *