রত্নাকর থেকে সবাই বাল্মিকী হতে পারে না, দিদির দূত প্রসঙ্গে কটাক্ষ ডাঃ সুভাষ সরকারের

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৯ জানুয়ারি: ‘যেভাবে গরিব মানুষের টাকা লুঠ করে খেয়েছে। যেভাবে বাংলার মানুষকে ঠকিয়েছে। যেভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। তাতে তৃণমূল নিজেকে সংশোধন করতে পারবে না। রত্নাকর থেকে সবাই বাল্মিকী হতে পারে না।” বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে গিয়ে দিদির দূতের কীর্তন ও রাম নাম নেওয়া প্রসঙ্গে এভাবেই কটাক্ষ করলেন ডাঃ সুভাষ সরকার। 

প্রসঙ্গত, দরজায় কড়া নাড়ছে দুর্গাপুর পুরসভার ভোট। মেয়াদকাল উত্তীর্ণ হওয়ায় প্রশাসক বসানো হয়েছে শিল্পশহরের পুরসভায়। তার ওপর আগামী বছরই রাজ্যে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর ওই দুই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ময়দানে নেমেছে বঙ্গ গেরুয়া শিবির। সংগঠনকে মজবুত করতে যেমন দফায় দফায় ব্লক থেকে জেলা কার্যকারিনী বৈঠক করছে। তেমনই নীচুতলার কর্মীদের অক্সিজেন জোগাতে এবং জনসম্পর্ক বাড়াতে পাড়ায় পাড়ায় চা-পে চর্চা কখনো লিট্টি চোখার আসর করছে বিজেপি নেতৃত্ব। আবারও দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে জেলায় নামছে গেরুয়া শিবির। শুক্রবার থেকে শিল্পশহর দুর্গাপুরে বিজেপির দুদিনের কার্যকারিনী বৈঠক শুরু হচ্ছে। তার আগে বৃহস্পতিবার জোরকদমে প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে খতিয়ে দেখতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী (রাষ্ট্র) ডাঃ সুভাষ সরকার। তিনি বলেন, “জেলার কর্মী ও কার্যকর্তাদের উৎসাহ ও প্রেরনা দিতে রাজধানী ছাড়িয়ে জেলায় রাজ্যের কার্যকারিনী বৈঠক। আগামী পঞ্চায়েত ভোটকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুথস্তর থেকে জেলাস্তরে সম্মেলন সভা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ উৎসাহিত। প্রতিবছরই বিজেপির রাষ্ট্রীয় অধিবেশনের পর রাজ্য কার্যকারিনী হয়। এবার সেই কার্যকারিনী দুর্গাপুরে হচ্ছে। রাজ্যের বিজেপির সমস্ত সাংসদ, বিধায়ক, কার্যকর্তা, জেলার কার্যকর্তারা থাকবেন। আগামীদিনে নির্বাচনে লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরী করা হবে।”

এদিন তিনি রাজ্যে তৃণমূলের সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে গিয়ে দিদির দূতের কীর্তন ও রাম নাম নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “বিজেপির ন্যারেটিভ তৃণমূল গ্রহণ করতে শুরু করেছে। কোথাও রাম নাম। কোথায় দিদির দূতরা কীর্তন করছে। এর থেকে প্রমানিত, বিজেপি জনগনের যে আধার, সেটা তৃণমূল স্বীকার করে নিয়েছে। তবে, রত্নাকর থেকে সবাই বাল্মিকী হতে পারে  না।” রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে মিড ডে মিলের খাবার গুনগত মান ফান্ড নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। যদিও রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পর্যবেক্ষনে আসতে বিভিন্ন স্কুলে মিড ডে মিলের ফান্ড ঢোকানো শুরু করেছে রাজ্য। সে প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, “এটা সবসময় দেখা যায়। যখনই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পর্যবেক্ষনে আসে। তখনই নড়েচড়ে বসে রাজ্য সরকার। মিড ডে মিল নিয়ে প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। খাবারে সাপ, টিকটিকি, ইঁদুর বের হতে দেখা গেছে। তাই রাজ্য সরকার এখন আবারও নাটক করছে। ছবি তোলার জন্য পড়ুয়াদের খাবারের থালায় ডিম, ফল দিয়েছে। ছবি তোলার পর আবারও সেসব কেড়ে নিতে দেখা গেছে। এসব থেকেই প্রমানিত, তৃণমূল কংগ্রেস কতটা নীচ মানসিকতার।”  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *