কৃষকদের আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদমর্যাদাকে সম্মান করতে পারবো না : কৃষক নেতা

আমাদের ভারত, ৩১ জানুয়ারি: পুলিশের নির্দিষ্ট করে দেওয়া পথ থেকে সরে গিয়ে, প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষকদের ট্রাক্টর মিছিল রাজধানীতে ঢুকে পড়েছিল। এরপর আন্দোলনকারী কৃষকদের একাংশ অশান্তি বাধায় দিল্লি পুলিশের সদর আইটিও চত্বরে। তারা ঢুকে পরে লালকেল্লাতেও। সেখানে ধর্মীয় পতাকা টানিয়ে দেয় তারা। এই ঘটনায় তুমুল সমালোচনার ঝড় ওঠে। সরকারের তরফে জানানো হয় এই ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবার এই ঘটনা নিয়ে সরব হলেন কৃষক নেতার নরেশ টিকায়েতও। তিনি বলেন তেরেঙ্গার অপমান সহ্য করব না। তবে তিনি এই ঘটনাকে কৃষকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলেও অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদা কে সম্মান করলেও তা কখনোই কৃষকদের আত্মমর্যাদাকে বাদ দিয়ে নয়।

ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন নেতা নরেশ টিকায়েত বলেন, ২৬ জানুয়ারি যে ঘটনা ঘটেছে তা কৃষকদের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। জাতীয় পতাকা সবার ওপরে। আমরা চাইনা কেউ এর অবমাননা করুক। এই জিনিস সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে টিকায়েত আরোও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদাকে সম্মান করলেও তা কখনোই কৃষকদের মর্যাদা বিসর্জন দিয়ে নয়।

প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন লালকেল্লা সহ দিল্লির একাধিক জায়গায় কৃষকদের হাঙ্গামার পরেও শনিবার প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন,যে কৃষকরা চাইলে ১৮ মাসের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হবে নয়া কৃষি আইন আর আলোচনা চলতে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রবিবার ভারতীয় কৃষক ইউনিয়নের নেতার নরেশ টিকায়েত বলেন, কৃষকদের আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদমর্যাদা কে সম্মান করতে পারবো না।
সরকার যে কৃষি আইন আগামী দেড় বছর স্থগিত করে দিতে রাজি, এ প্রস্তাব আগেই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর। কিন্তু অনড় রয়েছে কৃষকরা। কৃষক নেতা বলেন নয়া কৃষি আইন বাতিল করতে হবে এ ছাড়া আর অন্য কোন বিকল্প নেই। সরকারের উচিত এসব কৃষকদের কেন্দ্র গ্রেফতার করেছে তাদের ছেড়ে দেওয়া। যাতে করে আলোচনার পথ খোলা থাকে। কৃষি আইন নিয়ে একটি সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছাতে হবে। কোনো রকম চাপে পড়ে, কোন কিছুতেই আমরা রাজি হব না। চাষিরা কখনোই চায় না সরকার বা সংসদ কৃষকদের কাছে নত হোক। কিন্তু আমাদেরও দেখতে হবে কৃষকদের আত্মসম্মান যাতে বজায় থাকে। মাঝামাঝি একটা পথ বেছে নিতে হবে। আলোচনা রাস্তা খোলা থাকুক।

লালকেল্লার অশান্তির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। আটক করা হয়েছে ৮০ জনকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *