“ভারতে ধর্মের নামে বোমা-বুলেট চলে না, এদেশের মুসলিমদের কথা ভাবার দরকার নেই” তালিবানদের পাল্টা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নাকভি

আমাদের ভারত, ৪ সেপ্টেম্বর: কাশ্মীরের মুসলিমদের নিয়ে কথা বলার অধিকার আছে তাদের। এমনটাই দাবি করেছিল তালিবানরা। এবার সেই দাবির পাল্টা দিলেন নরেন্দ্র মোদী সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নাকভি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এদেশের মুসলিমদের কথা তালিবানদের না ভাবলেও চলবে। ভারতে ধর্মের নামে মৌলবাদী, কট্টরপন্থীদের অত্যাচার, হিংসা অত্যাচারের কোনো নজির নেই। তাই এদেশের মুসলিমদের রেহাই দেওয়ার কথা বলেছেন তালিবানদের উদ্দেশ্যে তিনি।

একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাকভি বলেছেন, ভারতে শুধুমাত্র সংবিধানকেই মেনে চলা হয়। এখানে মসজিদের প্রার্থনা করতে যাওয়া মানুষকে বোমা বুলেটে প্রাণ হারাতে হয় না। মেয়েদের স্কুলে যেতে বাধা দেওয়া হয় না। তাদের মাথা, পা, কেটে নেওয়া হয় না। ভারত ও আফগানিস্থানের শাসনব্যবস্থা আলাদা বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তালিবান এদেশের মুসলিমদের কথা না বললেই ভালো। ভারতের মুসলিমদের রেহাই দিতে হাতজোড় করে ওদের আবেদন করছি।”

একটা আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তালিবান মুখপাত্র সোহেল শাহিন, বলেছে মুসলিম হিসেবে কাশ্মীরের, ভারত বা অন্য যেকোনো দেশের মুসলিমদের ব্যাপারে কথা বলার অধিকার তাদের রয়েছে। যদিও কিছুদিন আগে তালিবানরা দাবি করেছিল আফগানিস্থান তাদের দখলে এলেও সেদেশের মাটিকে ভারত বা অন্য কোন দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু দু’দিনের মধ্যেই সুর পাল্টাছে তালিবানিদের। জাবিউল্লাহ মুজাহিদ নামে আরেক তালিবানি মুখপাত্র পাকিস্তানের একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সমস্ত বিরোধ মিটিয়ে নিতে আলোচনায় বসা উচিত ভারত পাকিস্তানের।

শাহিনের মন্তব্যে ভারতে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তালিবানরা কাশ্মীরের অশান্তিতে নয়া মাত্রা যোগ করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে। যদিও বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা জানিয়েছেন, পাকিস্তান হোক বা আফগানিস্থান সবদিকে কড়া নজর রয়েছে ভারতের। আফগানিস্থানে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোচ্ছে ভারত সেদিকে প্রতি মুহূর্তে খেয়াল রাখছে, আর তার উপর নির্ভর করেই নয়া দিল্লি নীতি নির্ধারণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *