রাজেন রায়, কলকাতা, ১২ সেপ্টেম্বর: বেহালার পর্ণশ্রীতে ঘটে যাওয়া মা-ছেলের জোড়া খুনে প্রাথমিকভাবে সন্দেহের তীর ছিল পরিবারের কর্তা তপনবাবুর দিকেই। কিন্তু রবিবার লালবাজারের এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠক করে এ ঘটনায় গৃহকর্ত্রী সুস্মিতা মন্ডলের দুই মাসতুতো ভাই সন্দীপ দাস এবং সঞ্জয় দাসের যুক্ত থাকার কথা ঘোষণা করলেন যুগ্ম-কমিশনার অপরাধ দমন মুরলীধর শর্মা। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই ভাইকে। দুইজনই জেরায় পুলিশের কাছে খুনের কথা স্বীকার করেছে। টাকার লোভেই এই খুনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, সোমবার বেহালার পর্ণশ্রীতে একটি আবাসনে সুস্মিতা মণ্ডল(৪৫) ও তাঁর ছেলে তমোজিৎ মণ্ডল(১৩)-এর গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। বাড়ি ফিরে এসে দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সাহায্যে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢোকেন পেশায় ব্যাঙ্ক কর্মী তপন মন্ডল। কিন্তু ঘরে ঢুকে এই দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে যান তিনি। পুলিশ মোটামুটি নিশ্চিত ছিল এই ঘটনায় পরিচিত ও ঘনিষ্ঠজনরাই জড়িত। কেননা ওই দুজনের মৃত্যুর সময় কোনও ধ্বস্তাধ্বস্তির ঘটনা বা চিৎকার চেঁচামেচির ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিকভাবে তপনবাবুকে সন্দেহ হলেও পোক্ত প্রমাণ পায়নি পুলিশ।
পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে জানতে পারে সুস্মিতা দেবীর সঙ্গে তাঁর স্বামী তপন মণ্ডলের সম্পর্ক মোটেও ভালো ছিল না। একই সঙ্গে তপনবাবুর বয়ানে নানা অসঙ্গতি থাকায় তাঁর ওপরেই পুলিশের সন্দেহ সব থেকে বেশি ছিল। তাই দফায় দফায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি আটকও করেছিল পুলিশ। কিন্তু তপনবাবুর পক্ষে প্রকাশ্যেই সওয়াল করেন সুস্মিতাদেবীর বাবা। তিনি সাফ জানান, তাঁর জামাই এই খুন করতে পারে না।

এরপরে এই ঘটনার তদন্ত আরও জটিল হয়ে ওঠে পুলিশের কাছে। তাঁরা সুস্মিতাদেবীর বাবার সঙ্গেই আলাদা করে কথা বলে জানতে পারেন সুস্মিতার দুই মাসতুতো ভাই সন্দীপ দাস ও সঞ্জয় দাসের যাতায়াত রয়েছে ওই বাড়িতে। সেই সূত্র ধরেই এগোতে শুরু করে পুলিশ। এরপর নানা সূত্রে তাঁরা জানতে পারেন বাজারে দুই ভাইয়েরই ভালো রকম ধার রয়েছে। এরপর শনিবার রাতে মহেশতলা থেকেই তাঁরা সন্দীপকে তুলে আনেন লালবাজারে। সেখানেই রাতভর জেরা চলে সন্দীপের। জেরায় একসময় ভেঙে পড়ে খুনের কথা স্বীকার করে সন্দীপ। জানায় ভাই সঞ্জয় দাসকে সঙ্গে নিয়েই এই খুনের ঘটিয়েছে সে। এরপর পুলিশ আজ দুপুরে ডালহৌসি এলাকা থেকে সঞ্জয়কে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানতে পেরেছে প্রাথমিকভাবে ডাকাতির পরিকল্পনা ছিল ওই দুই অভিযুক্তের। খুনের পরিকল্পনা মোটেও ছিল না। ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ওই আবাসনে পৌঁছায়। কিন্তু ডাকাতিতে বাধা দেন সুস্মিতা। দুপুর সওয়া ৩টে নাগাদ তাঁরা প্রথমে সুস্মিতাকে ও পরে তমোজিতকে খুন করে। সুস্মিতাকে খুন হতে দেখে ফেলেছিল তমোজিত। তাই তাঁকেও খুন করা হয়। এরপর আলমারির চাবি খুলে সেখানে থাকা টাকাপয়সা ও গয়না নিয়ে দুই ভাই তাদের মহেশতলার বাড়িতে ফিরে যায়।

