আমাদের ভারত, ৪ ডিসেম্বর:
গোল্ড মেডেল পেয়ে গেছে মোদী সরকার। দ্বিতীয় স্থানের জন্য বিরোধীরা একে অপরের সঙ্গে লড়াই করছে। তাই সেটা নিয়ে কোনও মাথা ব্যাথা নেই বিজেপির। এমনটাই মন্তব্য রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের। ‘কংগ্রেস ছাড়া বিরোধী জোট আসলে মোদী সরকারের হাত শক্ত করবে,’ শিবসেনার মুখপত্রে বিরোধী জোটে কংগ্রেসের প্রসঙ্গিকতা বিষয়ক মন্ত্যবের প্রেক্ষিতে এই কথা বলেন তিনি।
দিন কয়েক আগেই মুম্বই ঘুরে এসেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে ইউপিএ–র অস্তিত্বকে একরকম অস্বীকার করে কংগ্রেসকে অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে ধরে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কংগ্রেসকে একরকম বাদ দিয়েই বিজেপি বিরোধী জোটের আহবান জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। দেখা করেছেন এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার, শিবসেনা নেতৃত্বের সঙ্গে। কিন্তু মমতার সঙ্গে বিজেপি বিরোধী জোট গঠনে একমত হলেও সেটা কংগ্রেস বিহীন হোক তা চায় না শিবসেনা, তা নিজেদের মুখপাত্রে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তারা। শিবসেনা মুখপাত্র সামনাতে মমতাকে শক্তিশালী হিসেবে পরিগণিত করা হলেও বলা হয়েছে কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে জোট গঠন আসলে মোদী সরকারের হাতকে শক্ত করা। এ বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ওটা সম্পূর্ণভাবে ওদের মতামত। ওদের জিজ্ঞাসা করুন। মোদী সরকার গোল্ড মেডেল পেয়ে গেছে অর্থাৎ প্রথম স্থান দখল করে নিয়েছে। এখন লড়াই চলছে দ্বিতীয় স্থান নিয়ে। ফলে দ্বিতীয় পজিশন কংগ্রেস পাক, ইউপিএ পাক, শিবসেনা পাক, সাপ পাক, ব্যঙ পাক, এসব নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমরা প্রথম পজিশন পেয়ে গেছি।”
বিরোধী জোটে কংগ্রেসের উপস্থিতি প্রসঙ্গ ছাড়াও এরাজ্যে সিপিএমকে তুলে আনার ক্ষেত্রে তৃণমূল বিশেষ ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তৃণমূলের মুখপাত্র জাগো বাংলায় প্রকাশিত “সিপিএম জাদুঘর” বিষয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “সিপিএমের জাদুঘর সাজাচ্ছে তৃণমূল। সিপিএমের হয়ে ঝান্ডা লাগাচ্ছে। সিপিএমের সভা মিছিলে লোক পাঠাচ্ছে। সবমিলিয়ে সিপিএমকে তুলে আনার চেষ্টা করছে তৃণমূল।”
বামেদের ইস্তেহার প্রসঙ্গে সুকান্তবাবু বলেন, “সিপিএম উঠে আসার চেষ্টা করছে। কিন্তু রাজ্যের মানুষ বিরোধী হিসেবে বিজেপির সঙ্গেই রয়েছে। বামদিকে আর স্টিয়ারিং ঘুরবে না। সিপিএমের সঙ্গে লক্ষ্মণ শেঠ, সুশান্ত ঘোষের মতো লোক ছিল, যারা দিনের-পর-দিন খুন করে গেছে। মানুষের সব মনে আছে। মানুষ এত তাড়াতাড়ি ভুলে যায় না।
অন্যদিকে কৃষক আন্দোলনে কৃষক মৃত্যুর ইস্যুতে বালুরঘাটের সাংসদ বলেন, এই বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে কোনো পরিসংখ্যান এখনো পর্যন্ত কোনও রাজ্য সরকার পাঠায়নি। তার কথায়, কোভিড হোক কিংবা কৃষক আন্দোলন– কতজন মারা গেছে তার কোনো হিসেব কেন্দ্র করে না। রাজ্য যে পরিসংখ্যান দেয় সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী কেন্দ্র বলে কতজন মারা গেছে। কৃষক আন্দোলন করতে গিয়ে কত লোক মারা গেছে সে বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে এখনো কোনও রাজ্য সরকার এমনকি পাঞ্জাব সরকারও পরিসংখ্যান পাঠায়নি। রাজ্য যদি তথ্য পাঠায় তাহলে কেন্দ্র বলবে। মূল আন্দোলন যা দিল্লি পুলিশের অধীনে পরে সেখানে কেউ মারা যায়নি এটা সকলেই জানেন।

