সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১ জুন: সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য ২৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দের এক শৌচালয় নির্মাণের বোর্ডকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পে ২০২৫ সালে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দের শৌচালয় নির্মাণের এই বোর্ডকে কেন্দ্র করে চরম বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বোর্ডটি নজরে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাসপাতাল জুড়ে। এতদিন যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলের আজানা ছিল। রাজ্যে সরকার বদল হওয়ার পর তা জানান দিচ্ছে।
বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ চত্বর থেকে বেআইনি দখলদার উচ্ছেদ হতেই বেরিয়ে পড়েছে পুরসভার বরাদ্দ প্রায় ২৮ লক্ষ টাকার শৌচালয় তৈরির বোর্ড। সেই বোর্ডের লেখা অনুসারে এত দিন কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু হাসপাতাল চত্বর ঘুরেও এরকম শৌচালয় চোখে পড়েনি। এরকম একটা আধুনিকমানের শৌচালয়ের কোনও অস্তিত্ব খুঁজে না পেয়ে ‘থ’ হয়ে গেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, রোগী ও তাদের পরিবার। এমনকি বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূল পরিচালিত বাঁকুড়া পুরসভা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে এই সাইনবোর্ডের কথা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কেউ এতদিন জানতেন না বলে তারা দাবি করেছেন। ২০১১ সাল নাগাদ বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রধান গেটের উল্টো দিকে মেডিক্যাল কলেজেরই একটি ভবনে ‘স্ক্যান সেন্টার’ ছিল। সেই সময় বিধানসভা নির্বাচনের পর স্ক্যান সেন্টারটি মেডিক্যাল কলেজের অন্যত্র স্হানাত্বরিত হয়। তখন সেই ছেড়ে যাওয়া ভবনটি দখল করে ব্যবসা শুরু করেন তৃণমূল অনুগামী এক ব্যবসায়ী। এবিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো রকম অনুমতির তোয়াক্কা করেননি ওই ব্যবসায়ী।
অভিযোগ, স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার মদতে সেখানে খাবারের দোকান বসে। সম্প্রতি রাজ্যে সরকার বদলের পর ওই ব্যবসায়ীকে ভবন ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি ব্যবসা গুটিয়ে চলে যেতেই ভবনের সামনে এত দিন ঢাকা পড়ে থাকা বাঁকুড়া পুরসভার শৌচালয় গড়ার সাইনবোর্ডটি নজরে আসে।এই সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে যে শৌচালয় নির্মাণের জন্য মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়েছে মোট ২৭ লক্ষ ৭৮ হাজার ৩৪১ টাকা। এই শৌচালয় নির্মাণের তারিখ লেখা আছে ২৬ নভেম্বর ২০২৫ সাল। শৌচালয় নির্মাণের জন্য বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাকে সময় দেওয়া হয়েছে ৯০ দিন। বোর্ডের এক কোণে কিউআর কোড রয়েছে। যেটি স্ক্যান করলে প্রকল্পের বিশদ তথ্য পাওয়ার কথা। তবে স্ক্যান করে কোনও তথ্যই পাওয়া যায়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কৌতুহলী জনতার অনেককে তা স্ক্যান করতে দেখা যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী, রোগী ও তাদের পরিবার থেকে শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এমন একটি বোর্ড আছে তা তাদের জানা ছিল না। এই শৌচালয় তৈরি হয়েছে কাগজে কলমে দেখিয়ে বাঁকুড়া পুরসভার অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, তারা নিশ্চিত যে শুধুমাত্র বোর্ড টাঙিয়ে দিয়ে শৌচালয়ের জন্য বরাদ্দ বিশাল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে নিয়েছে তৃণমূল পরিচালিত বাঁকুড়া পুরসভা। অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত হওয়া জরুরি।
বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানা বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। বাঁকুড়ার পুরপ্রধান অলকা সেন মজুমদার বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পে সুডার মাধ্যমে (স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি) ওই এলাকায় একটি শৌচালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। একটি সংস্থা ওই শৌচালয় নির্মাণের বরাতও পেয়েছিল। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে ওই শৌচালয়ের নির্মাণ কাজ স্থগিত রাখা হয়। প্রকল্পে কোনও বেনিয়ম হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

