দফায় দফায় দুষ্কৃতী হামলা, ভাটপাড়ার কেউটিয়ায় চলল চার রাউন্ড গুলি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১২ জানুয়ারি: গুলি চালনার ঘটনায় ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভাটপাড়া। মঙ্গলবার রাতে দফায় দফায় দুষ্কৃতী হামলার ঘটনা ঘটলো ভাটপাড়া থানার কেউটিয়ার পালপাড়ায়। এই ঘটনায় ওই এলাকার তিনটি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙ্গচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। দুটি বাইকে ভাঙ্গচুর চালিয়ে চার রাউন্ড গুলিও চালায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় চরম আতঙ্কে কেউটিয়ার বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রঞ্জিত বিশ্বাসের বাড়ির পুকুর পাড়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালাচ্ছিল পাশ্ববর্তী গঙ্গা ইঁট ভাটার বাসিন্দা গুড্ডু। তখন রঞ্জিত ঘটনার প্রতিবাদ করে। আর তখন গুড্ডুর সাথে গণ্ডগোল বাধে। আর তারপরেই ফোন করে গুড্ডু তার বন্ধুদের ডেকে আনে এলাকায়। সেই সময় গণ্ডগোল মিটে গেলেও ফের রাতে গুড্ডু তার দলবল নিয়ে রঞ্জিতের বাড়িতে আচমকা চড়াও হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গুড্ডু একজন দুষ্কৃতি এবং প্রায়ই গুড্ডু এই অঞ্চলে অসামাজিক কার্যকলাপ চালাতো। প্রতিবাদ করলেই অশান্তি করতো। প্রতক্ষ্যদর্শীদের বক্তব্য, এদিন ঠিক একই ভাবে গুড্ডুর কাজকর্মের বিরোধিতা করাতে রঞ্জিতকে ওরা এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করে। আর ভাইকে বাঁচাতে এসে আক্রান্ত হন দিদি শঙ্করী পাল। এরপর ফের গভীর রাতে গুড্ডু প্রায় ১০০ জন লোক নিয়ে এসে রণজিৎ বাবুর বাড়িতে চরাও হয়। বাড়ি ও বাইক ভাঙ্গচুর করে। বন্দুক দেখিয়ে তাকে ভয় দেখানো হয়। চালানো হয় গুলি। অভিযোগ, শঙ্করী দেবীর ছেলে স্নেহাংশু পালকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতিরা। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান উনি। শুধু তাই নয় এই ঘটনায় স্থানীয়রা আটকাতে গেলে দুষ্কৃতীরা তাদের ধাওয়া করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং বন্দুক উচিয়ে ভয় দেখায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গুড্ডু ও তার দলবল প্রয়াই এই ধরনের কাজ করে, ফলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এদিন স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, “এই গুড্ডু এলাকার ইট ভাটাতে থাকে আর বিভিন্ন অসামাজিক কাজে লিপ্ত। আর তার প্রতিবাদ করলেই আমাদের মারধর করে, মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমরা চাই এই গুড্ডুর উপযুক্ত শাস্তি হোক।”

মঙ্গলবার সারা রাত চলা দুষ্কৃতী তাণ্ডবের পর বুধবার সকালে গোটা ঘটনা পুলিশকে জানানো হলে ঘটনার তদন্ত শুরু করে ভাটপাড়া থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে
গুড্ডুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *