“মন্দির-মসজিদ মমতা আর মমতাজের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করা বিজেপির সঙ্গে সংখ্যালঘুরা কখনোই থাকবে না,” দিলীপের মন্তব্যের পাল্টা মানসের

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১২ মার্চ: সাগরদিঘি উপনির্বাচনে ফল খারাপ হয়েছে শাসক দলের৷ তা নিয়ে চলছে পর্যালোচনা। আর তার মাঝেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে নির্দেশ তৃণমূলের৷ শনিবার ঘাটালে পশ্চিম মেদিনীপুর সংখ্যালঘু সেলের সম্মেলনের পর রবিবার হল মেদিনীপুর জেলা সংখ্যালঘু সেলের কর্মী সম্মেলন৷ সেখানে উপস্থিত দলের নেতাদের সাগরদিঘির উপমা টেনে বিভিন্ন ভাবে হুঁশিয়ারি দিলেন নেতা মানস রঞ্জন ভুঁইঞা৷

মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর হলে সংখ্যালঘু সেলের কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল রবিবার বিকেলে৷ উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের কয়েক হাজার মুসলিম সংখ্যালঘু নেতা৷ উপস্থিত ছিলেন সংখ্যালঘু সংগঠনের রাজ্যস্তরের কয়েকজন নেতাও৷ তাদের সামনেই দলের নেতা কর্মীদের বিভিন্ন ভাবে সক্রিয় হতে পরামর্শ দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন মানস ভুঁইঞা৷
তিনি বলেন, “বিজেপি সিপিআইএম বলতে শুরু করেছে, দেখো সাগরদিঘিতে সংখ্যালঘুরা শাসক দল থেকে সরে গেছে। আরে না রে ভাই, সংখ্যালঘুরা দিদির সঙ্গেই আছে। ভারতীয় জনতা পার্টি দেশটাকে ভাঙতে চায়। যেখানে যেখানে বিজেপি দেশে রয়েছে সেখানেই সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। মমতাজ আর মমতাকে পার্থক্য করতে দেবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্ব ধর্মের ঐক্যতা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক ব্যানার্জি। সিপিআইএম, কংগ্রেস, বিজেপি এক হয়েছে। পাড়ায়, অঞ্চলে, ব্লকে নজর রাখুন। মনে রাখবেন প্রতিটি পাড়ায়, মহল্লায় কমিটি করতে হবে। মহিলা যুবক যুবতী সকলকে সেখানে যুক্ত করতে হবে। শুধু নিজেদের ছবি দিয়ে প্রচার করলে চলবে না। নিজেদের ছবি কম দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংখ্যালঘুদের ছবি দিন। যদি কোনো নেতা কোনো মিটিং না করে, ব্লকে অঞ্চলে না যায়, আমাদের জানান। আমরা সাংগঠনিক স্তরে ব্যবস্থা নেব। প্রতিটি ব্লকে সংখ্যালঘুদের নিয়ে সমাবেশ করতে হবে।”

সাগরদিগি উপনির্বাচনী ফলাফলের পরে গত ৮ মার্চ খড়্গপুরে দিলীপ ঘোষ টিএমসিকে কটাক্ষ করেছিলেন সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে ৷ তিনি বলেছিলেন- “মমতা ব্যানার্জির করার কিছু নেই আর। যাদের উপর ভরসা করে জিতেছিলেন তারা সাগরদিঘিতে খেলা দেখিয়ে দিয়েছে। বাংলার মুসলমানদের উনারা কিনে রেখেছিলেন। কিন্তু তারা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, তাদের প্রতিনিধি নওশাদকে যেভাবে বিনা দোষে হেনস্থা করেছেন, ৪০ দিন জেলে ভরে রেখে, এটাতে ওই সমাজের মধ্যে একটু নাড়া দিয়েছে। তারা বুঝেছেন তাদের কেনা গোলাম করে রাখা হয়েছে”৷ এদিন তারই পাল্টা জবাব দিয়েছেন মানস ভুঁইঞা৷ তিনি বলেন, “একেবারে বাজে কথা। সাগরদিঘি ইস্যুতে নেত্রী দলীয় নেতাদের অনুসন্ধান করতে দিয়েছেন। তারা অনুসন্ধান করেছেন। প্রাথমিকভাবে যা বোঝা গিয়েছে-সেখানে স্থানীয় স্তরে নিজেদের ভুল বোঝাবুঝির প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি ঘটেছে। সংখ্যালঘুরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গী ছিলেন, আছে ও থাকবে। যারা মন্দির মসজিদ মমতা আর মমতাজ এর মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে সংখ্যালঘুরা কখনোই সেই বিজেপির সঙ্গে যাবে না। সিপিআইএম সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করেছে তাদের দলের জন্য। কখনোই উপকার করেনি। একমাত্র যা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির যে নেতারা সংখ্যালঘুদের নিয়ে কথা বলছেন তারা সবার আগে উত্তর প্রদেশ মধ্যপ্রদেশ টা ঠিক করুন। সেখানে মুসলিম বেশি হলেও আর্থিক বরাদ্দ কম তাদের জন্য, তুলনায় এ রাজ্যে অনেক কম মুসলিম, তবুও তাদের জন্য আর্থিক বরাদ্দ অনেক বেশি। সিএএ এবং এনআরসির নাম করে ১৯ লক্ষ সংখ্যালঘুকে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে বন্ধ করে রেখেছে বিজেপি। বিজেপি এলে এই রাজ্যেও অনুরূপ ক্যাম্প করবে। সংখ্যালঘুরা এটা কখনোই চাইবে না”৷

পাশাপাশি গতকাল‌ ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ডেবরা অডিটোরিয়াম হলে। পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই সম্মেলন। এই সম্মেলন থেকে রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক জুনেদ খান বলেন, সাগরদিঘি থেকে আমরা শিক্ষা পেয়েছি। তবে সাগরদিঘির মানুষ বুঝতে পারবে তারা ভুল করেছে। তবে সকালে ভুল করলে সন্ধ্যায় ঠিক হয়ে যাবে।

এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভুঁইঞা, রাজ্যসভার সাংসদ সেক নাদিমূল হক, রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক জুনেদ খান, ঘাটাল সাংগঠনিক সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি নজরুল ইসলাম ও অন্যান্য নেতৃতবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *