আমাদের ভারত, হাওড়া, ২৫ মে: ঘূর্ণিঝড় যস ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হচ্ছে। বুধবার ওড়িশার পারাদ্বীপে ঘন্টায় ১৫৫ থেকে ১৮০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়ার কথা। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, বুধবার রাজ্যের উপর ঘূর্ণিঝড়ের প্রতক্ষ্য প্রভাব না পড়লেও দুই মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাশাপাশি পশ্চিমের জেলাগুলিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি কলকাতায সহ একাধিক জেলায় ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ঘন্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইবে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতায় মঙ্গলবার হাওড়া গ্রামীণ জেলার উলুবেড়িয়া, শ্যামপুর, বাগনানে প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী পুলক রায়।

এদিন প্রথমে মন্ত্রী পুলক রায় উলুবেড়িয়া ১ নং বিডিও অফিসে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। বৈঠকে মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক মুক্তা আর্য, হাওড়া জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য, হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার সৌম্য রায়, উলুবেড়িয়ার মহকুমাশাসক অরিন্দম বিশ্বাস, উলুবেড়িয়া পুরসভার প্রশাসক অভয় দাস সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। পরে মন্ত্রী পুলক রায় শ্যামপুর ১ ও ২ নং ব্লকে বৈঠক করেন বৈঠকে প্রশাসনিক আধিকারিকরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্যামপুরের বিধায়ক কালীপদ মন্ডল, শ্যামপুর ২ নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জুলফিকার আলি মোল্লা। এরপর মন্ত্রী বাগনান ১ ও ২ নং ব্লকে বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাগনানের বিধায়ক অরুণাভ সেন, আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল। এদিনের এই বৈঠকে বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিনের এই বৈঠক সম্পর্কে মন্ত্রী পুলক রায় জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নীচু এলাকার মানুষদের বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ত্রাণ শিবিরগুলিতে খাবারের ব্যবস্থার পাশাপাশি জন স্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের পক্ষ থেকে পানীয় জলের পাউচের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। এদিন মন্ত্রী জানান ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় এনডিআরএফের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি জানান, এছাড়াও প্রতিটি ব্লকের প্রতিটি পঞ্চায়েতের কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে এদিন বিকেলে মন্ত্রী পুলক রায় উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভার বিভিন্ন নদী বাঁধ এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি ত্রাণ শিবির ঘুরে দেখেন।


