গুরুত্ব পেয়েছে শুধু মুঘলরাই, মৌর্য, গুপ্ত, চোল রাজারা দেশের ইতিহাসে উপেক্ষিত থেকে গেছে, অভিযোগ অমিত শাহের

আমাদের ভারত, ১১ জুন:
ভারতের ইতিহাসে তথা ইতিহাসবিদদের কাছে মুঘল শাসকরাই শুধুমাত্র গুরুত্ব পেয়েছেন। আর উপেক্ষিত থেকে গেছেন দেশের অন্যান্য রাজবংশের গুরুত্বপূর্ণ শাসকরা। শুক্রবার রাজপুতনার ইতিহাস সম্পর্কিত একটি বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে গিয়ে এমনই অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের অধিকাংশ ইতিহাসবিদ পাণ্ড্য, চোল, মৌর্য, গুপ্ত এবং অহমের মত অনেক সাম্রাজ্যের গৌরবময় কাহিনী উপেক্ষা করে শুধুমাত্র মুঘলদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। সুলতানি ও মুঘল শাসকদের বিরুদ্ধে রাজপুতানা, অহম সহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের রাজাদের লড়াইকে সংস্কৃতি ভাষা এবং ধর্ম রক্ষার যুদ্ধ বলে অভিহিত করেছেন অমিত শাহ। তার কথায়, “তাদের লড়াই বৃথা যায়নি। তাদের জন্য ভারত আবার বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।

পাণ্ড্য রাজাদের ৮০০ বছর এবং পল্লব, চোল বংশের ৬০০ বছরের শাসনে দক্ষিণ ও মধ্য ভারতের সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধি প্রসারের গৌরবময় ইতিহাসকে ভারতীয় ইতিহাসবিদরা উপযুক্ত গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, “মৌর্যরা সাড়ে ৫০০ বছর ধরে গোটা দেশ শাসন করেছে। আফগানিস্তান থেকে লঙ্কা পর্যন্ত তাদের শাসন চলেছে। সাতবাহন শাসকরা ৫০০ বছর রাজত্ব করেছেন। গুপ্ত রাজা ৪০০ বছর রাজত্ব করেছে। গুপ্ত সম্রাট সমুদ্রগুপ্ত প্রথম একটি অখন্ড ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেই সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু তাদের সম্পর্কে তেমনভাবে কোনও লেখা বই নেই।”

শক্তিশালী অহম নৃপতিরা বক্তিয়ার খলজি, ঔরঙ্গজেবের মত আক্রমণকারীকে পরাজিত করে অসমকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রেখেছিলেন। কিন্তু দেশের ইতিহাসে সেই অধ্যায়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ অমিত শাহের।

এরপর অমিত শাহ জোরের সাথে বলেন, “আমাদের সত্য লেখা থেকে কেউ এখন আটকাতে পারবে না। আমরা এখন স্বাধীন। আমরা আমাদের ইতিহাস নিজেদের মতো করে লিখতে পারি।” যদিও অমিত শাহের এই মন্তব্যকে ইতিহাসের গেরুয়াকরণ বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *