সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১০ জুলাই: এক প্রসূতির মৃত্যুকে ঘিরে ফের চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে। রবিবার সকলে হাসপাতালের সামনে মৃতদেহ নিয়ে বিক্ষোভ দেখান মৃতার আত্মীয়রা। হাসপাতাল কর্মীদের সঙ্গে চলে ধস্তাধস্তি। পরে পুলিশ এসে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনে।
মৃতের নাম সাধনা মণ্ডল (২৬)। বনগাঁর রাউতারা এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ, চিকিৎসকরা অ্যালার্জি টেস্ট না করেই অজ্ঞানের ইনজেকশন দেওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে সাধনার।

মৃতের পরিবার সূত্রের খবর, শনিবার সকালে বনগাঁর রাওতরারার বাসিন্দা সাধনা মণ্ডল নামে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এক বধূকে ভর্তি করা হয় বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে। রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ সাধনা মন্ডলকে সিজারের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। বেডে তুলে কোনো টেস্ট না করেই চিকিৎসকরা তাকে অজ্ঞানের ইনজেকশন দেয়। তারপরেই রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রোগীর মুখ থেকে গ্যাঁজলা উঠতে থাকে। চিকিৎসকরা করোনা পরীক্ষা করান রোগীকে। করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসে রোগীর। এক নার্স রাত দেড়টা নাগাদ পরিবারের কাছে জানতে চায়, সাধনার কী কোনো অ্যালার্জি ছিল? সাধনার মা জানান তাঁর যে অ্যালার্জি আছে তার রিপোর্ট দেওয়া আছে। এই কথা শুনতেই অপারেশন থিয়েটার থেকে এক চিকিৎসক চিৎকার করে ওঠে। ততক্ষণে সাধনার মৃত্যু হয়েছে।
অভিযোগ, অ্যালার্জি টেস্ট না করেই অজ্ঞানের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, আর সেই কারণেই মৃত্যু হয়েছে সাধনার। সকালে মৃত্যু খবর জানাজানি হতেই রোগীর পরিবারের লোকেরা উত্তেজিত হয়ে পরে। হাসপাতালে থাকা কিছু দালালদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে রোগীর পরিবার। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বনগাঁ থানার পুলিশ। এরপর উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতাল সুপার জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ হলে তদন্ত হবে।

