আমাদের ভারত, ১৪ নভেম্বর:
রাতের অন্ধকারে রাজ্যের শাসকদলের পার্টি অফিসে ব্যাপক বোমাবাজি, ভাঙ্গচুর এবং কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে আইএসএফ, আরএসপি ও বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন দুজন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যদিও এই ঘটনা এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যেকার সংঘর্ষ বলেও দাবি করা হয়েছে স্থানীয়দের একাংশের সূত্রে।
রবিবার রাতে বাসন্তী থানার অন্তর্গত আমঝড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮ নম্বর পেট কুমার এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। সূত্রের খবর, রবিবার রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন দুই তৃণমূল সমর্থক আলিম উদ্দিন লস্কর ও ইউ দি আলি শেখ। অভিযোগ, সেই সময় রাতের অন্ধকারে সুযোগ নিয়ে পার্টি অফিসের কাছে প্রায় ১৫ জন দুষ্কৃতী তাদের পথ আটকে দাঁড়ায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা বোমাবাজি করতে শুরু করে বলে অভিযোগ। এরপর দুজনকে বেধড়ক মারধর করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে চিৎকার চেঁচামেচিতে ছুটে আসেন অন্যান্যরা। তখন পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থালে পৌঁছয় বাসন্তী থানার পুলিশ। তারা আহত দুই তৃণমূল কর্মীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তারা এখন চিকিৎসাধীন।
বাসন্তী তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শ্যামল মন্ডল অশান্তির দায় চাপিয়েছেন আইএসএফ, আরএসপি ও বিজেপির ঘাড়ে। তার অভিযোগ, তিন দলের দুষ্কৃতিরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে শাসকদলের বিরুদ্ধে। এখানে কোনও গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব বা এলাকা দখলের লড়াই নেই।
কিন্তু অন্য আর একপক্ষের দাবি, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এলাকা দখলকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা ঘটেছে। এলাকা কার দখলে থাকবে তা নিয়ে আমঝাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যার স্বামী গণেশ সরকার এবং স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দিলীপ হালদারের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। সেটাই রবিবার সংঘর্ষ ও বোমাবাজির আকার নেয়। এই ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে বাসন্তী থানার পুলিশ।
ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চলের ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ টহল দেওয়া শুরু করেছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এলাকায় অস্থিরতা তৈরি করতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

