“মমতার টাটায় আগমন টেটে বিদায়! জনগণ চ্যাংদোলা করে ফেলে দেবে তৃণমূল সরকারকে,” তীব্র কটাক্ষ সুকান্ত মজুমদারের

আমাদের ভারত, ২২ অক্টোবর: খড়্গপুরের রোজগার মেলায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, টেটে পাশ করা অনশনরত চাকরি প্রার্থীদের যেভাবে রাজ্যের পুলিশ টেনে হিঁচড়ে ধর্না মঞ্চ থেকে সরিয়ে দিয়েছে, ঠিক একই ভাবে রাজ্যের মানুষ তৃণমূল সরকারকেও টেনে হিঁচড়ে চ্যাংদোলা করে ফেলে দেবে।

২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে দেড় বছরের ১০ লক্ষ কর্মসংস্থানের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী। সেই অনুযায়ী শুরু হয়েছে রোজগার মেলা কর্মসূচি। শনিবার খড়্গপুর সিস্টেম টেকনিক্যাল স্কুলের এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রেল, আইআইটি, ডাকঘর সহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগে প্রায় ২২২ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হল। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশিত প্রামানিক, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ, বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এছাড়াও ছিলেন খড়্গপুর সদরের বিজেপির বিধায়ক হিরণময় চট্টোপাধ্যায়, খড়্গপুরের ডি আর এম, ও আইআইটি ডেপুটি ডিরেক্টর অমিত পাত্র সহ অন্যান্যরা। এদিনের অনুষ্ঠান থেকে সুকান্ত মজুমদার ও দিলীপ রাজ্য সরকারের একাধিক বিষয়ে সরব হন।

বাংলায় নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের তুলোধোনা করে সুকান্ত বলেন ১০-১২ বছর অন্তর পশ্চিমবঙ্গের স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা হচ্ছে। প্রতি ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হচ্ছে। স্বজনপোষণ দুর্নীতি রুখতে গ্রুপে এআরবি বাদ দিয়ে বাকি সব গ্রুপের ইন্টারভিউ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গেও এই রকমই হওয়া উচিত। কিন্তু এখন বাংলায় দেখবেন লিখিত পরীক্ষায় ১০ ভাইভায়ে ৪০ নম্বর থাকে। এই সিস্টেমে রাজ্য সরকার চাকরি দেওয়ার চেষ্টা করছে। দুর্নীতি হচ্ছে টেট আন্দোলনকারীদের সঙ্গে। কি হলো বাংলার জনগণ সবটা দেখছে। বাংলার মানুষও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে চ্যাংদোলা করে ফেলে দেবে সময় এলেই। তীব্র কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, মমতার টাটা আগমন টেটে বিদায়।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ ও তৃণমূল নেতা পার্থ রায় পঞ্চায়েত ভোট সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করতে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের সাঁড়াশি দিয়ে দাঁত উপড়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “কোচবিহার জেলায় বহু এরকম ফচকে নেতা আছে ফোচকে গুন্ডা আছে। একজন নেতা আছে যারা আবার গাছগাছালি বিক্রি করে। এরাও ডাক্তার হয়ে গেছে জানতাম না। নতুন বিডিএস ডিগ্রী পেয়ে এসে ওনারাও দাঁত উপড়াচ্ছেন। জনগণ সময় মতো এদের উপরে ফেলবে। চিন্তা করতে হবে না।

এদিকে তৃণমূল বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লতা মঙ্গেশকর ও শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সেই বিষয়ে সুকান্ত মজুমদারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,
“উনি অ্যালবার্ট আইনস্টাইন বলেননি সেটাতেই আমি অবাক হচ্ছি। এরপর হয়তো কোনো তৃণমূল নেতা বলবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন কিছু আবিষ্কার করে পশ্চিমবঙ্গকে দিচ্ছেন।”

অন্যদিকে দিলীপ ঘোষ বলেন, “৭৫ বছর স্বাধীনতা উপলক্ষে ৭৫ হাজার চাকরি দেওয়া হচ্ছে। আর পশ্চিমবাংলার দিকে তাকালেই দেখা যাচ্ছে, চাকরির জন্য হাহাকার।চাকরি চাইতে গেলে লাথি খেতে হচ্ছে, জেলে যেতে হচ্ছে। পশ্চিমবাংলার সবকিছুই ভুয়ো, ডাক্তার ভুয়ো, ভ্যাকসিন ভুয়ো নিয়োগপত্র ভুয়ো। কত রকম ধোকা হচ্ছে যুবক-যুবতীদের সঙ্গে। তবে দেরিতে হলেও বিদ্বজনেদের যে বোধোদয় হয়েছে এটাই ভালো।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *