আমাদের ভারত, ২ এপ্রিল: রীতিমতো উত্তপ্ত নন্দীগ্রামের ভোটের পর শুক্রবার আরো এক ভিডিও নিয়ে হৈচৈ পড়ল রাজ্য রাজনীতিতে। ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ভাঙা পা দোলাচ্ছেন মমতা। অনেকেই দাবি করেছেন কোন মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় এই ছবি ধরা পড়েছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি। তৃণমূল এই প্রচারকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেছেন ওরা যত কুৎসিত প্রচার সব করে, ওরা অমানবিক।
সুব্রত বাবুকে জিজ্ঞেস করা হয় এই ভিডিও কি সত্যি?উত্তরে সুব্রত জানিয়েছেন ওদের সবকিছু জোচ্চুরি আর জালিয়াতি। শুক্রবার সকাল থেকেই এই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বিকেলের দিকে ফেসবুকে এটি পোস্ট করেছেন রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র প্রণয় রায়। তিনি বলেছেন আমরা প্রথম থেকেই বলেছিলাম গোটা ঘটনাটাই নাটক। এবার দিদিমনির নিজেই সেটা প্রমাণ করে দিলেন। যে পায়ে ব্যথার জন্য ওকে হুইলচেয়ার নিয়ে ঘুরতে হয় সেই পাও উনি দিব্বি নাড়াচ্ছেন। আর ভাঙ্গা পায়ের ওপরে আরেকটা পা চাপিয়ে দেওয়া যায় না।
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে মমতা বসে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে। সেখানে টেবিলের তলা দিয়ে মমতার চোট লাগা পা দোলাতে দেখা যাচ্ছে। একটা সময় ব্যান্ডেজ করা পায়ের উপরের ডান পা তুলে রাখছেন মমতা।
প্রসঙ্গত নন্দীগ্রামে ভোটের দিন বয়ালের এঅটি বুথে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়েছিলেন মমতা। বুথের বাইরে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। খবর পেয়ে সেখানে আসেন আধাসেনা পুলিশ অফিসার, কমিশনের কর্তারা ছুটে আসেন। শেষে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য পুলিশ এবং কমিশনের আধিকারিকদের তদারকিতেই বুথ থেকে বের করে আনা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপরই মমতাকে কাছের একটি দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বলা হচ্ছে সেখানে এই ভিডিওটি তোলা হয়েছে।
বিজেপির মুখপাত্র প্রণয় রায় বলেছেন, তিনি আগেই সংবাদমাধ্যমের বলেছিলেন, নন্দীগ্রামের ভোট মিটলেই সহানুভূতি পাওয়ার অভিনয় শেষ হয়ে যাবে। তার অভিনয় করার অধিকার আছে। কিন্তু নিজেদের যোগ্যতায় যারা পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষী চাকরি পেয়েছেন তাদের দিয়ে হুইলচেয়ার ঠেলানো ঠিক নয়।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন নন্দীগ্রামে বিরুলিয়ায় পায়ে আঘাত পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর তাকে এসএসকেএম-এ রেখে চিকিৎসা করা হয়। পরে বাঁ পায়ে প্লাস্টার বেঁধে নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েন তৃণমূল সুপ্রিমো। হুইল চেয়ারে বসেই একের পর এক পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন, সভা ও করেন। এখনো তাই করে চলেছেন।
যদিও এই ঘটনাকে প্রথম থেকে বিরোধীরা নাটক বলেই আক্রমণ করেছেন। নন্দীগ্রামের প্রচারে শেষ দিনে এক পায়ে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতে অংশ নেওয়ার ছবিকে ঘিরে ওকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি নেতারা। এই ভিডিও এবার তাদের হাতে আরও জোরালো অস্ত্র হিসেবেই ধরা দিল।

