শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ১৩ মার্চ: চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই সোমবার থেকে আবার নির্বাচনী প্রচারে নামতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সবকিছু যদি ঠিক থাকে তাহলে তাঁর সফর শুরু হবে ঝাড়্গ্রাম জেলা থেকে। কিন্তু তিনি এখন চলাফেরা করবেন হুইলচেয়ারেই। আর এখানেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুইলচেয়ারে দেখে কি মানুষের আবেগের অতিরিক্ত অ্যাডভানটেজ পাবে তৃণমূল? ভোটবাক্সেও কি তার প্রতি ফলন হবে? যদিও এই ঘটনা ষড়যন্ত্র, নাকি নিছক দুর্ঘটনা তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এখন তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপির অভিযোগ, ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই রকম বক্তব্য প্রমাণ করে দেয় ঘটনার সত্যতা।
সোমবার সফরে বেরোনোর আগে রবিবার ১৪মার্চ নন্দীগ্রাম দিবসে বাড়ি থেকেই তৃণমূলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করবেন নেত্রী। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার নন্দীগ্রামে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর নির্বাচনী কেন্দ্রের সফরের সময় গাড়ির দরজা থেকে বাঁ পায়ে গুরুতর আঘাত পান মুখ্যমন্ত্রী। আঘাত লাগে শরীরের আরো বেশকটি জায়গাতেও। দ্রুত সেখান থেকে তাকে আনা হয় এসএসকেএম-এ। চিকিৎসকরা পরীক্ষার পর তাঁর পায়ে প্লাস্টার করে দেন। চিকিৎসকরা আরও কিছুদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখতে চাইলেও মমতা কিছুটা জোর করেই বাড়ি ফিরে যান। তাঁকে সাত দিনের মাথায় ফের পরীক্ষা করার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তৃণমূল নেত্রী জানিয়েছেন, “আঘাত যন্ত্রণা সব কিছুর পরেও বলছি, মানুষের কাছে গিয়ে আমাকে দাঁড়াতেই হবে। কারণ নির্বাচন একটা বড় রাজনৈতিক সংগ্রাম। সেখানে মানুষই আমার শক্তি। নিজের কষ্টের থেকে মানুষের সামনে পৌঁছানো আমার কাছে বেশি জরুরি।”
এই পরিস্থিতিতে মমতার ঘোরাফেরা সবই হবে হুইলচেয়ারে। তার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে দুটি হুইল চেয়ারের। একটি তাঁর গাড়ির সিট খুলে সেখানে বসানো হবে। হুইলচেয়ারেই তিনি বিমান কিংবা কাপ্টারে উঠবেন। মঞ্চে ওঠার জন্য থাকবে ঢালু পথ। নির্বাচনী সফরে বিভিন্ন জেলায় যেসব হোটেল বা গেস্ট হাউসে তিনি রাত্রিবাস করবেন সেখানেও উপযুক্ত বন্দোবস্ত রাখা হবে।
ইতিমধ্যেই শুক্র-শনিবার দুদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি বাতিল করতে হয়েছে তাঁকে। তা নিয়ে তিনি পীড়িত। আগামী কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার তাঁর সভা করার কথা ঝাড়গ্রাম, লালগড়, গোপীবল্লভপুরে। এরপর মঙ্গলবার তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা, কেশিয়াড়ি ও খড়গপুর গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্রে তিনটি সভা করবেন বলে ঠিক আছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাধারণত মঞ্চে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করতে দেখা যায় না। বরং মাইক হাতে মঞ্চের এই মাথা থেকে ওই মাথা ঘোরা ফেরা করাই তাঁর স্বাভাবিক পদ্ধতি। কিন্তু এখন তিনি হুইলচেয়ারে বসে বক্তৃতা করবেন। আর তাতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাঁর এই অবস্থা দেখে কি মানুষের আবেগের স্রোত বইবে? আর তাতেই কি ভোট বাক্সে অতিরিক্ত অ্যাডভানটেজ পাবে তৃণমূল? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন, “নিজের সুবিধা-অসুবিধার কথা ভাবার সময় এখন নয়। আমি বিশ্বাস করি যাদের সামনে যাব, সেই জনতার সহযোগিতা পাব। এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।”
মমতা প্রথম থেকে অভিযোগ করে আসছিলেন যে তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে বিরুলিয়ার ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালের বেড থেকে কর্মী-সমর্থকদের দেওয়া বার্তায় তিনি কোনও ষড়যন্ত্রের উল্লেখ করেননি। বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন এখনো এই ইস্যুতে কিছু বলেনি, কিন্তু মমতা এই ঘটনা প্রসঙ্গে নিজেই নিজের মন্তব্য বদল করেছেন তা আমাদের দৃষ্টি এড়ায়নি। তিনি ভিডিও বার্তায় যা বলেছেন তা সবাই শুনেছে। সত্যি কখনও লুকিয়ে রাখা যায় না। মমতার সেই বার্তাই ঘটনা প্রসঙ্গে সত্যটা বয়ান করেছে।
এর আগে শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছিলেন, পায়ের তলা থেকে রাজনীতির মাটি সরে যাচ্ছে বলেই ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খাড়া করেছে তৃণমূল। কারণ মনোনয়ন পেশের পর নেত্রী কোথায় যাবেন সেই তথ্য ছিল না জেলাশাসকের কাছেও। রিপোর্ট থেকে সেটা পরিষ্কার।

