সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৮ মে: মৈনাক মন্ডল ও রোম কর্মকার এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে।
বাঁকুড়া খ্রিশ্চান কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র মৈনাক জানিয়েছে যে, তার আশা ছিল একটা বড় কিছু করবে। তবে খুব বেশি চাপ নিয়ে বা প্রচণ্ড সিরিয়াসনেস নিয়ে পড়াশোনা করেনি সে। প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করত সে। স্কুলের শিক্ষকদের পরামর্শ এবং বাড়ির পরিবেশ তাকে মানসিকভাবে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছে বলেও জানায় মৈনাক। তার এই সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদান রয়েছে।
সে জানিয়েছে যে, তার বাবা-মা সবসময় তাকে মানসিকভাবে সমর্থন করেছেন। তার বাবা পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং মা একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। ব্যস্ততার মাঝেও ছেলের পড়াশোনার দিকে সবসময় নজর রেখেছেন তাঁরা। তার বক্তব্য, কখনও সে পড়ত, কখনও খেলত, চাপ নিত না। স্কুলের শিক্ষকদের মতে, মৈনাক বরাবরই শান্ত, ভদ্র ও মনোযোগী ছাত্র। তার এই কৃতিত্ব আগামী দিনে জেলার অন্যান্য ছাত্র- ছাত্রীদেরও অনুপ্রেরণা জোগাবে।
ফল প্রকাশের পর থেকেই মৈনাকের বাড়িতে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ভিড় জমাতে শুরু করেছেন আত্মীয়, প্রতিবেশী ও শুভানুধ্যায়ীরা।

অন্যদিকে জেলার চতুর্থ স্থানাধিকারী বাঁকুড়া জেলা স্কুলের ছাত্র রোম। বাবা অভয় কর্মকার বাঁকুড়া জেলা স্কুলের শিক্ষক। মা আল্পনা কর্মকার গৃহবধূ। নবম শ্রেণি পর্যন্ত কোনও প্রাইভেট শিক্ষকও ছিল না। রোম জানিয়েছে, শিক্ষার মানোন্নয়ন করা উচিত। কারণ শিক্ষাই দেশের উন্নতিতে সব থেকে বড় ভূমিকা পালন করে। পরিকাঠামোর উন্নতি করা উচিত। শিক্ষক নিয়োগ হওয়া উচিত। তার স্বপ্নও চিকিৎসক হওয়া। এ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রোম। সে শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নতি চায়।
রোম জানায় যে, শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন করা উচিত। স্বচ্ছতার সঙ্গে সঠিক শিক্ষক নিয়োগ হওয়া উচিত।রোমের বাবা অভয় কর্মকার বাঁকুড়া জেলা স্কুলেরই শিক্ষক। মা আল্পনা কর্মকার গৃহবধূ। তাদের বক্তব্য, নবম শ্রেণি পর্যন্ত কোনও প্রাইভেট শিক্ষকও ছিল না তার। তবে, রেজাল্ট ভালো হবে, সেই বিষয়ে আশাবাদী ছিলেন তারা।
অন্যদিকে রোম বলে, সে পরিশ্রম করেছিল। তার ফল পেয়েছে। এরকমই নম্বর আশা করেছিল সে। পরীক্ষা ভালো হয়েছিল। সকাল থেকে রুটিন করে পড়তে বসত। প্রশ্ন-উত্তর প্র্যাকটিস করত। নবম শ্রেণি পর্যন্ত কোনও শিক্ষক ছিল না। স্কুলের শিক্ষকরা সাহায্য করেছেন। পরে টিউশন শিক্ষক নিয়েছিল। মন দিয়ে পড়াশোনা করলেই পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়া যায়। সে জানিয়েছে, আগামী দিনে মেডিকেল নিয়ে পড়াশোনা করতে চায়। তবে, অবসর সময়ে খেলা দেখতে, ছবি আঁকতে ভালো লাগে রোমের।

