আমাদের ভারত, ২৫ মে: ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই একের পর এক রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ আসতে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। বিরোধীরা এই নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব। এবার রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হস্তক্ষেপ চাইলেন ১৪৬ জন প্রাক্তন আধিকারিক তথা বিচারপতি সহ গণ্যমান্যরা। তাঁরা এখুনি এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতির কাছে যারা চিঠি লিখেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ১৭ জন প্রাক্তন বিচারপতি, ৬৩ জন প্রাক্তন আমলা, ১০ জন প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত এবং ৫৬ জন প্রাক্তন সেনা অধিকারীক। রাষ্ট্রপতিকে পাঠানো চিঠিতে তাঁরা দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় যে হিংসার ঘটনা ঘটছে সেগুলো খতিয়ে দেখার জন্য সুপ্রিমকোর্টের নজরদারিতে প্রাক্তন বিচারপতি নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হোক।
এই ১৪৬ জন বিশিষ্টজনদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত ভাস্বতী মুখোপাধ্যায়, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন ডিজিপি প্রবীণ দীক্ষিত।
ওই চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গের হিংসার ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য সুপ্রিমকোর্টের নজরদারিতে শীর্ষ আদালতের প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল গঠন করা হোক। পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী রাজ্য। তাই দেশের সংস্কৃতি অখণ্ডতার উপর হামলা করেছে দেশ বিরোধীরা। এনআইএ কে তদন্তভার দেওয়া হোক।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে ১৫ হাজারের বেশি হিংসার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যের ২৩টি জেলার মধ্যে ১৬টি জেলা সন্ত্রাসের কবলে। হিংসার কারণে চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ নিজের প্রাণ বাঁচাতে অসম, ওড়িষা, ঝাড়খন্ডে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। দিন কয়েক আগেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও বাংলার রাজনৈতিক হিংসায় কবলিত বহু মানুষ অসমে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন। চিঠিতে হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক প্যাকেজ দাবি করেছেন বিশিষ্টজনরা।

