আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৬ নভেম্বর: ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আগমন তিথি উপলক্ষে বিশাল সর্বধর্ম সম্মেলনের আয়োজন করেছিল সৎ সংঘ সাধন পীঠ। এই উপলক্ষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয় বীরভূমের চন্দ্রপুর থানার হরিপুর গ্রামে। কথিত আছে ১৯৫২ সালের ১৬ নভেম্বর ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র জঙ্গল ঘেরা হরিপুর গ্রামে এসেছিলেন। সেই উপলক্ষে এখানে প্রতিবছর ঠাকুরের সর্বধর্ম সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

সৎ সঙ্গ সাধন পীঠের কর্ণধার বিভাস চন্দ্র অধিকারী জানান, এদিন সকালে শোভাযাত্রা বের করা হয়। লক্ষাধিক মানুষের সুদৃশ্য শোভাযাত্রা এলাকার মহুয়াতলা পর্যন্ত যায়। কারণ এক সময় ওই মহুয়াতলায় ঠাকুর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েছিলেন। এরপর আশ্রম চত্বরে সারাদিন রাত চলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এদিন লক্ষাধিক ভক্ত পংক্তিভোজে সামিল হন।
বিভাসবাবু বলেন, “ঠাকুর হরিপুরের রাস্তা ধরে সীমানা পেরিয়ে তৎকালীন বিহার (অধুনা ঝাড়খণ্ড) গিয়েছিলেন। তাছাড়া এলাকায় “ভান্ডিরবন” নামে একটি জায়গা রয়েছে। সেখানে শ্রীকৃষ্ণ এসেছিলেন। বালকদের প্রসাদ খাইয়েছিলেন। ফলে এলাকার একটা ধর্মীয় অস্তিত্ব রয়েছে। তাছাড়া ঠাকুর চেয়েছিলেন এই এলাকায় সৎ সঙ্গ সাধন পীঠের প্রধান কার্যালয় হোক। ঠাকুরের আদেশ পেয়েই এখানে শতাধিক বিঘা জায়গার উপর মন্দির গড়া হয়েছে। এই জায়গার উপর তপোবন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়া হবে। দাতব্য চিকিৎসালয়, মেডিক্যাল কলেজ, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে”।

এদিন ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎ সঙ্গ মিশন সাধন পীঠের ফিজিও থেরাপি হাসপাতালের উদ্বোধন করেন হাইকোর্টের বিচারপতি দীপক সাহা রায়।
প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিভাসবাবুর কলেজ স্ট্রিটের ফ্ল্যাট সিল করে দেয় সিবিআই। যদিও এনিয়ে তিনি বলেন, “আমার নিজের বলতে কিছু নেই। যা রয়েছে সব ঠাকুরের। ভক্তদের দানেই ঠাকুরের সেবা কাজ চলছে। আশ্রম গড়ে উঠছে”।

