আমাদের ভারত, ২৮ মে: প্রধানমন্ত্রী বিশ্বভারতীর উপাচার্য হলে দোষের নয়, আর মুখ্যমন্ত্রী আচার্য হলেই সমস্যা! হলদিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের এভাবেই পালটা জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ৷ এই মন্তব্য ঘিরে শনিবার সামাজিক মাধ্যমে প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
একটি বহুল প্রচারিত দৈনিকের অনলাইন খবরে প্রথম এক ঘন্টায় লাইক, মন্তব্য ও শেয়ারের সংখ্যা হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার, ৩৬৫ ও ১০। সৃজিত দে লিখেছেন, “কুনাল কি জানে না, দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে যিনি থাকেন তিনি বিশ্বভারতীর আচার্য হন। দেশের স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে এই নিয়ম চলছে। দেশের রাষ্ট্রপতি পদাধীকারীর পরিবর্তে অথবা অন্য কোনো বিশেষ পদাধিকারীর পরিবর্তে, দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদাধিকারী জন্য ঐ নিয়ম চালু হয়নি।”
অপু পাল লিখেছেন, “তৃণমূল দলটা অশিক্ষিত তাই মানুষকে ভুল বুঝিয়ে চলছে।“ অভিমন্যু সুমন লিখেছেন, “এই দলের নেতাদের কাজই হলো মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা। নিজেদের স্বার্থ গুছিয়ে নিয়ে বসে থাকা।“ অভি দাস লিখেছেন, “কুনালকে বলুন দিদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসতে। তাহলেই পদাধিকার বলে বিশ্বভারতীর আচার্য হবেন।“ পার্থ চক্রবর্তী লিখেছেন, “ অত কিছু জানলে কি আর তৃণমূলের মুখপাত্র হত।”
দীপক মাইতি লিখেছেন, “দুর্নীতিমূলক-শিক্ষা সুবিস্তারে শিক্ষাকে আরো মায়ের ভোগে পাঠিয়ে দলের কুক্ষিগত করার জন্য কুণাল ঘোষকে সুপরামর্শদাতা হিসেবে সহ-উপাচার্য করা হোক।“ সুমন ব্যানার্জি লিখেছেন, “আর মাত্র তিনটে বাকি! মাত্র তিনটে … ১)নোবেল, ২) প্রধানমন্ত্রী, ৩) বিশ্বসুন্দরী। ” কাজী হাসানুর রহমান লিখেছেন, “আচার্য আর উপাচার্যের পার্থক্য জনিত শিক্ষা ও বোধ যাদের নেই তাদের কথা শুনতে হচ্ছে এটাই আশ্চর্যের।“ শুভেন্দুবিকাশ বেরা লিখেছেন, “মিথ্যে কথাগুলো সুন্দর বাচনভঙ্গিতে বলার জন্য এই লোকটিই পারফেক্ট।“ দীপক চ্যাটার্জি লিখেছেন, “উপাচার্য, প্রধান মন্ত্রী ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও বাংলার রাজ্যপাল এক ও অভিন্ন এমন আইন করলে কেমন হয়। সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।“
অন্যদিকে শৌভিক মিত্র লিখেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য প্রধানমন্ত্রী (বা মুখ্যমন্ত্রী) কেন হবে? কোনও শিক্ষাবিদ কেন হবে না? আর প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হলে মুখ্যমন্ত্রীর রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হতে সমস্যা কি?“
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঠিক হয়, এবার রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য হবেন মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন পদাধিকার বলে রাজ্যপালই আচার্য হতেন৷ এবার তা হবেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের তরফে শীঘ্রই বিধানসভায় বিল এনে আইন সংশোধন করা হবে৷ সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিরোধীরা সরব হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য করাটা গণতান্ত্রিক কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। এদিকে, এই ঘোষণার পর বাজকুলে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, সমস্ত বিজেপি বিধায়ক সর্বশক্তি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আচার্য হওয়ার প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন৷ এরপর তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ হলদিয়ায় এক শ্রমিক সমাবেশে যোগ দিতে এলে, তাঁকে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা৷ শ্রমিক সমাবেশে ঢোকার আগে সেই কথার পালটা জবাব দেন কুণাল ঘোষ।

