পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২১ ডিসেম্বর: নতুন বছরেই বালুরঘাট বিমানবন্দর থেকে কলকাতাগামী বিমান চলার ইঙ্গিত। মঙ্গলবার বালুরঘাট বিমানবন্দরে এয়ারপোর্ট অথরিটি ও পরিবহন দপ্তরের আধিকারিকদের পরিদর্শনের পরেই মিলেছে সবুজ সংকেত।
এদিন সকালে মালদা থেকে ৪ জনের প্রতিনিধি দল বালুরঘাট বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। যার মধ্যে দু’জন ছিলেন এয়ারপোর্ট অথরিটির ও দুজন ছিলেন রাজ্য পরিবহন দপ্তরের। যাদের অভ্যর্থনা জানাতে আগে থেকেই বালুরঘাট বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা শাসক আয়েশা রাণী এ সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। যাদের উপস্থিতিতে বেশ কিছু সময় ধরে চলে বিমানবন্দরের রানওয়ে খতিয়ে দেখার কাজ, চলে মাপজোকও। আর যার পরেই এ ব্যাপারে জেলা শাসকের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন চার সদস্যর ওই বিশেষ প্রতিনিধি দলটি। যেখানেই কিছুটা সবুজ সঙ্কেত মিলেছে এই বিমানবন্দর চালুর বলে প্রশাসন সুত্রের খবর।

জানা যায়, বালুরঘাট শহরের মাহিনগর এলাকায় সামরিক প্রয়োজনে ব্রিটিশরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি অস্থায়ী বিমানবন্দর চালু করেছিল। যেখানে আটের দশকে স্থায়ীভাবে বিমান পরিষেবা চালু করা হয়েছিল। যা পরে বন্ধ হয়ে গেলেও ভারত চীন যুদ্ধ ও ১৯৭১ -এর যুদ্ধের সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী এই বিমান বন্দরটি ব্যবহার করে। শুধু তাই নয়, ১৯৮৪ সালের দিকেও বালুরঘাটের এই বিমানবন্দরটি চালু ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১৫-১৬ নাগাদ রাজ্য পূর্ত দপ্তর প্রায় ১১ কোটি টাকায় এই বিমানবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে হাত লাগায়। ১৭ সালের শেষ দিকে বিমানবন্দরের পরিকাঠামোর কাজ শেষ হয়ে গেলেও গত ৪ বছরে চালু হয়নি বিমানবন্দরটি। যেখানে রানওয়ে, অফিস, সীমানা পাঁচিল সহ নানা পরিকাঠামো নতুনভাবে সেজে উঠেছে। গত কয়েকমাস আগে বালুরঘাট বিমানবন্দরের রানওয়ে পরীক্ষা করেন এয়ারপোর্ট অথরিটি। যার পরে বিষয়টি নিয়ে নবান্নের মুখ্য সচিব মালদা, বালুরঘাট ও কোচবিহারের বিমানবন্দর নিয়ে বৈঠকও করেছেন। চলতি মাসে মুখ্যমন্ত্রীর সফরে এই বিমান চালু নিয়ে সবুজ সঙ্কেত দেন তিনি। যার পরেই বালুরঘাট কোচবিহার ও মালদা বিমানবন্দর পরিদর্শনে আসেন এয়ারপোর্ট অথরিটি ও পরিবহন দপ্তরের আধিকারিকরা। সোমবার মালদা বিমানবন্দর পরিদর্শনের পরে বালুরঘাট বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন ওই ৪ সদস্যের প্রতিনিধিদল।
জেলা শাসক আয়েশা রানী এ জানান, পূর্বে চালু থাকা বালুরঘাট বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যার পরে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে প্রচুর পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। বিমানবন্দরের আধুনিকিকরণের কাজও প্রায় শেষ হয়েছে। এসব খতিয়ে দেখতেই এসেছিলেন প্রতিনিধিরা। তাদের রিপোর্টের পরেই এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার।

