সিপিএম নেত্রী তথা অধ্যাপিকার দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২১ ডিসেম্বর: এক সিপিএম নেত্রীর দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ওই নেত্রী তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন অধ্যাপিকা নন্দিনী মুখার্জি ফেসবুকে এই অভিযোগ করেছেন। তাঁর স্বামী বিমান ব্যানার্জি শিবপুরের আইআইইএসটি-র প্রাক্তন রেজিষ্ট্রার।

নন্দিনী মুখার্জি সোমবার সকালে ফেসবুকে লিখেছেন, “গতকাল আমাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। আমাদের বাড়ি মানে ওখানে আমি এখন থাকি না বটে, কিন্তু আমার বাবা, মা, ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ঐ বাড়িতে থাকে- আজ থেকে নয়, গত পঞ্চাশ বছরের ওপর আমাদের পরিবার ঐ অঞ্চলের অর্থাৎ ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

ওখানকার সবচেয়ে পুরনো বাসিন্দাদের মধ্যে আমার বাবা রয়েছেন। আমার ভাই সিপিএমের পোলিং এজেন্ট ছিল এবং ছাপ্পা ভোট আটকানোর চেষ্টা করছিল, এই অপরাধে তাকে আমার আশি ঊর্ধ্ব বাবা, কিশোরী ভাইঝি এবং পরিবারের অন্যান্যদের সামনে যে ভাবে হুমকি দেওয়া হয় সেটা কলকাতার বুকে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটতে পারে বলে আমার অজানা ছিল।

কালকের শুধু এই একটা ঘটনা নয়, একই ভাবে কাল আমার অসংখ্য পার্টি কমরেড বুক চিতিয়ে লড়াই করে গেছে। কেউ মার খেয়েছেন, তবু খাঁড়া দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ করেছেন। হ্যাঁ, ভয় পেয়ে কেউ কি পিছু হটেননি? এরকম ঘটনাও ঘটেছে। সকলের দম তো সমান হয় না।

কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। এইরকম পরিস্থিতিতে যাঁরা লড়াই করছেন তাঁরা কিন্তু নাগরিক অধিকার রক্ষার লড়াইটা লড়তে চাইছেন। তাহলে নাগরিকদেরও তো দায়িত্ব থাকে। নাগরিক সমাজ যদি চুপ করে থাকা অভ্যাস করে ফেলে তাহলে সমাজটা পচনের দিকে এগিয়ে যায়। প্রতিবাদহীন আনুগত্য কোন সময়েই ঠিক নয়। অতীতে হয়ে থাকলেও নয়, এখন হলেও নয়।

আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকর্মী বললেন, “ম্যাডাম, তাও তো এখানে আপনারা অনেকে ভোট দিয়েছেন। কলকাতার বাইরে আমাদের এলাকায় কি হয় জানেন? আমাদের মত ৪-৫ জনকে ভোট দিতে দেয়। বাকিটা ওরাই দিয়ে দেয়।” আচ্ছা বলুন তো এই যাদের ভোট “ওরা” দিয়ে দেয় – তাঁরা যদি একত্রিত থাকতে পারতেন, রুখে দাঁড়াতে পারতেন- তাহলে কি বাংলার মত রাজনীতি সচেতন প্রদেশের এই দশা হত?

কাল থেকে অনেক অপেক্ষা করেছি। না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত চুষিকাঠি ধরা রাজনীতিকের কাছে আমার কোনও প্রত্যাশা নেই। মমতা ব্যানার্জির মত নার্সিসিস্টিক চরিত্রের মহিলার কাছেও নেই। আমার প্রত্যাশা ছিল বাংলার নাগরিক সমাজ এবং তাঁদের মধ্যে যাঁরা এগিয়ে রয়েছেন বলে জনগণ মনে করেন তাঁদের কাছে। কিন্তু এইরকম গণতন্ত্রের ধ্বংসলীলা দেখেও তাঁরা নিশ্চুপ রইলেন- যেটা অতীতে বঙ্গপ্রদেশে কখনই ঘটত না। বাস্তবে এটা হল “ডিপলিটাইজেশন অফ এ পলিটিক্যাল কমিউনিটি” – এক রাজনীতি সচেতন জনগোষ্ঠীর অরাজনীতিকরণ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *