আমাদের ভারত, কল্যাণী, ৯ সেপ্টেম্বর: গ্রামে গ্রামে স্ব- উদ্যোগ তৈরি করা ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে মজবুত করার উদ্যোগ নিয়েছে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়। এজন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। পরিবেশ রক্ষায় উদ্যান পালনের প্রয়োজনীয়তার কথা এবং চারাগাছ তৈরি করে কীভাবে ব্যবসায় সাফল্য পাওয়া যায় তার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন গ্রামে।
সম্প্রতি নদিয়ার কালীনারায়ণপুর- পাহাড়পুর
গ্রামপঞ্চায়েতে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিন দিনের এই শিবিরে কৃষকদের নার্সারি, কুড়ি কলম, গুটি কলম ও জোড় কলম তৈরি করা হাতেকলমে শেখানো হয়। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভারত সরকারের পরিবেশ মন্ত্রক ও দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির নামে একটি সামাজিক সংস্থার উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। ৪০ জন কৃষক এই প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নিয়েছিলেন।

এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য উদ্যান পালন ব্যবসায় কৃষকদের উদ্যোগী করা এবং যারা উদ্যান পালন ব্যবসায় জড়িত আছেন সেইসব কৃষকদের সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করা। এর মাধ্যমে গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে তোলাই এই প্রশিক্ষণের মুখ্য উদ্দেশ্য।
ব্যবসায়ী উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি, পরিবেশ সচেতনতা, গ্রামে ও শহরে উদ্যান তৈরি করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাও এই প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য।
হুগলি জেলার হর্টিকালচার আধিকারিক ড: রণজয় দত্ত, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ENVIS সেন্টারের ডিরেক্টর অধ্যাপক ড: কৌশিক মণ্ডল, BCKV- এর প্রাক্তনী ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের প্রাক্তন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার ড: স্বপন কুমার পানিগ্রাহী এবং BCKV- এর প্রাক্তনী ড: বিনয় কুমার সিনহা বিশেষজ্ঞ হিসেবে এই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন। দেশের মাটি কল্যাণ মন্দিরের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ড: সুশান্ত মজুমদার ও রানাঘাট – কালীনারায়ণপুর পঞ্চায়েত এলাকার মতুয়া নেতৃত্ব ও দেশের মাটি কল্যাণ মন্দিরের সদস্য পরিমল বিশ্বাস। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ENVIS সেন্টারের তথ্য আধিকারিক সৌরভ ব্যানার্জি ও তথ্যপ্রযুক্তি আধিকারিক তন্ময় আচার্য।
প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিন প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নদিয়া জেলার রানাঘাট মহকুমা উদ্যান পালন আধিকারিক মোঃ সালাউদ্দিন। উনি হাতেকলমে কৃষকদের নার্সারিতে বিভিন্ন চারা কলম তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং আগামী দিনে কৃষকদের ওঁনার দপ্তরের মাধ্যমে এই বিষয়ে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রশিক্ষণের তৃতীয় দিন কৃষকদের প্রশিক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিন দিনের প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষিতদের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ও ভারত সরকারের পরিবেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে স্বীকৃতিপত্র প্রদান করা হয়।

