আমাদের ভারত, ৮ এপ্রিল: যখন করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে তখনই মারণ রোগে চলে গেলেন সাংবাদিক অলোক ঘোষ। মাত্র ৩৯ বছরে তাঁর কর্মজীবনের সমাপ্তি ঘটল। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন তাঁর স্ত্রীর প্রতীতি এবং একমাত্র মেয়ে ১০ বছরের তোড়াকে। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া সংবাদ জগতে।
উত্তর ২৪ পরগনা গারুলিয়া বাসিন্দা অলোক ঘোষ এই জেলায় সংবাদজগতে একটি পরিচিত নাম। জন্ম ১৯৮২ সালের ২০ মে। নবাবগঞ্জ শ্রীধর বংশীধর স্কুল এবং ইচ্ছাপুর নর্থ এন্ড হাই স্কুলে পড়াশোনা। ব্যারাকপুর রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক হয়ে সংবাদ জগতে প্রবেশ করেন তিনি। অলোকবাবু বহু সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং জাতীয় স্তরেও বেশকিছু সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন।
ইলেকট্রনিক্স, প্রিন্ট এবং ডিজিটাল মিডিয়ার বেশকিছু ওয়েবপোর্টালে তিনি নিয়মিত খবর পাঠাতেন। খবরের নেশায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছুটে বেড়িয়েছেন। এমনকি তিনি যখন অসুস্থ হয়েছেন তখনো প্রথমদিকে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে খবর সংগ্রহ করতে বেরিয়েছেন। কারণ তিনি বুঝতে পারেননি মারণ রোগ তাঁকে আক্রমণ করেছে।
গত সোমবার থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। সেদিন রাতেই ব্যারাকপুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়, পরে মঙ্গলবার ভোরে তাঁকে কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই দিন বিকেলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
অলোক ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসতেন, ছিলেন ভ্রমণপ্রিয়। প্রতিবছরই দূরে কোথাও ঘুরতে যেতেন। মাসখানেক আগে স্ত্রী এবং মেয়েকে নিয়ে গোয়ায় ঘুরতে গিয়েছিলেন।
তাঁর স্ত্রী প্রতীতিও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত৷ সব ছেড়ে আজ অলোক অজানার দেশে পাড়ি দিয়েছেন। এই অকাল মৃত্যুতে অলোকের স্ত্রী ও মেয়েকে সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই সহকর্মী থেকে রাজনৈতিক নেতা এবং প্রতিবেশীদের৷ সকলের জন্য বেদনাভরা স্মৃতি রেখে আজ অলোক নিরুদ্দেশ।

