রাজেন রায়, কলকাতা, ৩১ মে: রাজ্যের মুখ্যসচিবের মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েও চারদিনের মধ্যে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হল তাঁকে? আচমকা কি এমন ঘটল? সোমবার নবান্নে এমনই প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। করোনা ও যস বিধ্বস্ত পশ্চিমবঙ্গ থেকে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত একজন আমলাকে টেনে নেওয়ার সিদ্ধান্তে কেন্দ্রের প্রতিহিংসার গন্ধ পাচ্ছেন তিনিও। কেন্দ্রীয় সরকারের এই নির্দেশ আদৌ আইনসম্মত নয় বলেই তাঁর অভিযোগ।
৩১ মে সোমবারই মুখ্যসচিব হিসাবে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের শেষ দিন। কিন্তু একদিকে করোনার বাড়বাড়ন্ত, অন্যদিকে যসের তাণ্ডবে তছনছ বাংলাকে সামাল দিতে আলাপনের মত একজন আমলাকে পাশে চেয়ে দিল্লিতে আবেদন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২৪ মে দিল্লি সম্মতি দেয়, আগামী তিন মাস এ রাজ্যের মুখ্যসচিব হিসাবে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ই থাকবেন। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তাঁর মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু তারপরেই তাঁকে ডেকে নেয় কেন্দ্র। যদিও এদিন নবান্নেই উপস্থিত হন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, “এটাই আমাদের জিজ্ঞাস্য কী এমন হল যে ২৪ তারিখ থেকে চার দিনের মাথায় মুখ্যসচিবকে বলা হল তাঁকে ৩১ মে দিল্লির কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রকে যোগ দিতে হবে? যা বিপর্যয় পশ্চিমবাংলায় এই মুহূর্তে, সেখানে এটা করা আইনসঙ্গত কি না সেটাই আমি জানতে চাই।” তাঁর অভিযোগ, বাংলায় যেটা হচ্ছে তা বুঝিয়ে দিচ্ছে কেন্দ্র বাংলার নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ঠিক কী আচরণ করতে চাইছে। যস পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলাইকুন্ডায় গেলেও তাঁকে ২০ মিনিট বসিয়ে রাখা হয়েছিল। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় মুখ্যমন্ত্রীর। এরপর তাঁরা অনুমতি নিয়েই বেরিয়ে আসেন। ফলে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে জারি রইল কেন্দ্র রাজ্য স্নায়ুর লড়াই।

