উন্নয়নের নিরিখে বাঙালি ও অবাঙালি মিশ্রিত রিষড়া পুরসভা এলাকায় এগিয়ে তৃণমূল, পুরসভার ব্যর্থতাকে হাতিয়ার করে এগোতে চাইছে বিরোধীরা

আমাদের ভারত, হুগলি, ২৩ ফেব্রুয়ারি: বাঙালি ও অবাঙালির মিশ্রিত এলাকায় উন্নয়নের দিশা দেখাচ্ছে রিষড়া পুরসভা। এই রিষড়া পুরসভায় মোট ওয়ার্ড ২৩টা। ২০১৫ সালে তৃণমূল ১৯টা আসন পেয়েছিল। বাম সমর্থিত নির্দল ২টো আসন পেয়েছিল। সিপিআই একটা, কংগ্রেস পেয়েছিল একটি আসন।

রিষড়া পুরসভায় এবার তৃণমূলের নতুন মুখ সাত। মহিলা তিনজন। পুরুষ চারজন। এই পুরসভাতে তৃণমূলের তিনজন নির্দল কাঁটা রয়েছে। ২, ২২ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল প্রার্থী শুভজিৎ সরকারকে বহিকার করা হয়েছে। সেখানে টিকিট পেয়েছেন পুরনো কাউন্সিলর শর্মিষ্ঠা দাস।

লোকসভা ভোটের নিরিখে রিষড়া পুরসভা এলাকায় বিজেপি সাত হাজার আটশো ভোটে এগিয়ে ছিল। কিন্তু, বিধানসভা ভোটে সেই চিত্র পালটে যায়। রিষড়া পুরসভা এলাকায় বিজেপির মার্জিন কমে গিয়ে মাত্র আটটি ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে যায়। সেখানে তৃণমূল ১৫টা ওয়ার্ডে এগিয়ে যায়।

পুরসভা ভোটে মানুষ কেন তৃণমূলকে ভোট দেবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে রিষড়া পুরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্র বলেন, চার কোটি টাকা খরচ করে রিষড়া মাতৃসদন হাসপাতাল পাঁচতলা করা হয়েছে। তাকে পঞ্চাশ বেড করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের একশো কোটি টাকার প্রকল্পে গোটা রিষড়া এলাকা জুড়ে সাধারন মানুষকে বিনা পয়সায় বিশুদ্ধ পানীয় জল (RO Watter) দেওয়ার কাজ চলছে। পুরসভা এলাকা জুড়ে নিরানব্বই শতাংশ এলাকায় রাস্তা তৈরি হয়ে গিয়েছে। পুরসভা এলাকা জুড়ে প্রায় পাঁচ হাজার লাইট লাগানো হয়েছে। দূষ্কৃতী কার্যকলাপ ঠেকাতে পুরসভা এলাকা সিসি টিভি ক্যামেরায় মুড়ে দেওয়া হয়েছে। 

৭৬টা হাইমাস্ক লাইট লাগানো হয়েছে। পুর এলাকার সমস্ত ওয়ার্ডের পুকুর বাঁধিয়ে লাইট দিয়ে সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে। ৯কিমি এলাকা জুড়ে ফুটপাত তৈরি হয়েছে। সেগুলো ডেকরেটিভ লাইট দিয়ে সাজানো হয়েছে। ১৮ কিমি এলাকা জুড়ে অত্যাধুনিক মেশিন দিয়ে ড্রেন সংস্কারের কাজ চলছে। আটটি ওভার হেড ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়েছে। ১৫টা গভীর নলকুপ তৈরি হয়েছে। নয় হাজার দুশোজন কন্যাশ্রী পেয়ে উপকৃত হয়েছেন। বাংলা আবাস যোজনায় প্রায় দুই হাজার একশোটি বাড়ি তৈরি হয়েছে। চলতি বছর এগাশোটি বাড়ি তৈরি হবে। বিজয় সাগর মিশ্র বলেন, আশাকরি, এই সব কারনেই রিষড়ার মানুষ তৃণমূলকে ভোট দেবেন।

এই প্রসঙ্গে বিজেপির রিষড়া এক নম্বর মণ্ডলের সভাপতি বিজয় পান্ডে অভিযোগ করে বলেন, উন্নয়ন মানে পুরপ্রধান কি বলতে চাইছেন জানি না। তবে রিষড়ায় দুটো হাসপাতাল ছিল, একটি সেবা সদন, অপরটি মতৃসদন। দুটোই বন্ধ আছে। পুরসভার ফুটব্রিজ এখন গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা হয়েছে। সেখানে পণ্য সামগ্রীর বাজার বসে। একটু বৃষ্টি হলেই জল জমে যায়। এগুলো কি উন্নয়ন? বিজয় পান্ডে বলেন, আমরা জিতলে প্রথমেই হাসপাতাল দুটি ভালো করে চালাব। রিষড়ায় রেলগেট পড়ে গেলে মানুষকে আধঘন্টা সময় লাগে ওপারে যেতে। সেই কারনে একটা ওভার ব্রিজ কিম্বা আন্ডারপাস তৈরি করব। পুর এলাকায় জল নিকাশির ব্যবস্থা করব। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *