স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৩ এপ্রিল: এক গৃহবধূকে খুন করে বিছানায় ফেলে রাখার অভিযোগ স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। গৃহবধূর বাবার বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মেরে ঘরের ভিতরে ফেলে রেখে দেয়, এরপর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় গৃহবধূর স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন। ঘটনাটি শান্তিপুর থানা এলাকার মানিকনগর চর এলাকায়।
জানা গেছে, মৃত গৃহবধূর নাম শর্মিষ্ঠা বিবি, বয়স আনুমানিক ২৭ বছর। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শান্তিপুর ব্লকের ভোলাডাঙ্গা এলাকায় ওই গৃহবধূর বাবার বাড়ি। ৬ বছর আগে বিয়ে হয় শান্তিপুর থানা এলাকার মানিক নগর চর এলাকায়। গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী হাসান সেখ তার উপরে প্রতিনিয়ত অত্যাচার চালাত এবং শ্বশুর-শাশুড়িসহ শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য লোকজন মদত দিত তার স্বামীকে। প্রতিনিয়ত ওই গৃহবধূর উপরে অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ওই গৃহবধূ মাঝেমধ্যে তার পরিবারকে জানাতো। গতকাল রাতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় ঘরের ভেতরে ঢুকে দেখে ওই গৃহবধূ কাঁথা চাপা অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক।
খবর দেয় শান্তিপুর থানায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শান্তিপুর থানার পুলিশ। এরপর ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এর পরেই ক্ষোভ সৃষ্টি হয় স্থানীয় লোকজন থেকে শুরু করে গৃহবধূর বাবার বাড়ির লোকজনের মধ্যে। অভিযোগ, প্রতিবেশীরা যাতে টের না পায় সেই জন্য ওই গৃহবধূকে গঙ্গায় ফেলে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। কিন্তু তার আগেই জানতে পেরে যায় প্রতিবেশীরা।

গৃহবধূর রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে শান্তিপুর থানায়। শনিবার মৃতদেহটি উদ্ধার করে শান্তিপুর থানার পুলিশ, ময়নাতদন্তের জন্য রানাঘাট মহাকুমা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

