পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১১ মে: নাটকের শহরেই দর্শক শূন্য নাট্য আলোচনা চক্র। উপস্থিতি দেখা গেল না নাট্যকর্মীদেরও। বুধবার বালুরঘাটের বালুছায়াতে অনুষ্ঠিত নাট্য আলোচনা চক্রের অডিটোরিয়াম কার্যত ফাঁকাই পড়ে রইলো। যাকে ঘিরে রীতিমতো আলোড়ন পড়েছে গোটা বালুরঘাট শহরজুড়ে। প্রশ্নের মুখে পড়েছে উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনাও।
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের উন্নয়নের পথে ১১ বছরের অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসাবে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ও পশ্চিমবঙ্গ নাট্য একাদেমি এবং তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগীতায় নাটকের শহর বালুরঘাটের বালুছায়া অডিটোরিয়াম হলে অনুষ্ঠিত হয় নাট্য আলোচনা চক্র। এদিনের এই নাট্য আলোচনা চক্রের বিষয় ছিল নির্দেশকের ভাবনার খসড়া থেকে নাট্য নির্মাণ পরিকল্পনা। যে আলোচনা চক্র শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই চোখে পড়ে অডিটোরিয়াম হলের বেশিরভাগ আসনই ফাঁকা। খোদ নাটকের শহরে নাট্য আলোচনাচক্রের অডিটোরিয়ামের এমন অবস্থা কেন? যা নিয়ে কার্যত প্রশ্নের মুখে পড়েছেন উদ্যোক্তারাই। নাটক মঞ্চস্থ হতে চলার খবর পেলেই যেখানে শহরের বিভিন্ন মঞ্চে নাটক দেখার জন্য নাট্যকার থেকে শুরু করে নাট্যপ্রেমী দর্শকের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়, সেখানে নাটকের শহরে এমন অবস্থা কেন? সে প্রশ্নও উঠেছে এদিন। যদিও এই আসন ফাঁকা থাকার বিষয়টিকে উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনার অভাব বলেই ব্যক্ত করেছেন শহরের নাট্যপ্রেমী মানুষের একাংশ।
বালুরঘাট সৃজন নামক নাট্য সংস্থার তরফে রবীন্দ্রনাথ সাহা বলেন, বিষয়টি আগে জানানো উচিৎ ছিল। যে কারণে তিনি মর্মাহত। তিনি বলেন, নাটকের জায়গা বালুরঘাট, সেই জায়গাতে যদি এরকম একটা পরিস্থিতি হয়ে থাকে সেটা আমাদের কাছে পীড়াদায়ক। উদ্যোক্তাদের হয়ত যোগাযোগ করার বিষয়ে কোনো ঘাটতি রয়েছে।
অপরদিকে এই বিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক রাজেশ কুমার মন্ডল জানিয়েছেন, নাট্য আলোচনা চক্রের প্রচারে হ্যান্ডবিল বিতরণ করা হয়েছিল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালানোও হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি জানান, ফোন মারফৎও জানানো হয়েছিল বেশকিছু নাট্য সংস্থা ও নাট্য কর্মীদের। হয়ত ব্যস্ততার কারণে অনেকে আসতে পারেনি।

