জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৯ সেপ্টম্বর: ‘পনেরো দিনের মধ্যে আসামী গ্রেফতার না হলে ভয়ঙ্কর খেলা করে দিয়ে যাবো। দলের কেউ জড়িত থাকলে আগেই গুলি করে মেরে দেওয়া উচিত।’ বৃহস্পতিবার আউশগ্রামে তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় কার্যত এভাবে সুর চড়ালেন বীরভূমের তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল। একই সঙ্গে প্রকৃত আসামি গ্রেফতার না হলে পঞ্চায়েত বোর্ড ভেঙে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে কার্যত বিদ্রোহের সুর মৃতের বাবা তথা দেবশালা পঞ্চায়েতের প্রধান শ্যামল বক্সীর।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দলীয় কর্মীর বাড়িতে অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন দেবশালা পঞ্চায়েত প্রধান শ্যামল বক্সীর ছেলে চঞ্চল বক্সী। মঙ্গলবার দুপুরে আউশগ্রামের ভাতকুন্ডার জঙ্গল দিয়ে বাবাকে নিয়ে ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন চঞ্চল বক্সী। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও সিআইডি। ঘটনার ৩৬ ঘন্টা পরও অধরা অপরাধীরা। এদিকে অপরাধীরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে দেবশালা গ্রাম। সহজ সরল সৎ নিষ্ঠাবান যুবকের এরকম খুন কার্যত মানতে পারছে না গ্রামবাসীরা। বুধবার ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করে গ্রামবাসীরা। যদিও ঘটনার দায় নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দাবি বিজেপির দুষ্কৃতীরা একাজ করেছে। যদিও বিজেপি অভিযোগ অস্বীকার করে।
আবার মৃত চঞ্চল বক্সীর বাবা দেবশালা পঞ্চায়েতের প্রধান শ্যামল বক্সীর গলায় যদিও পরোক্ষে অন্য সুর। বৃহঃস্পতিবার চঞ্চল বক্সীর বাড়িতে দেখা করতে আসেন বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল। তাকে ঘিরে ধরে গ্রামবাসীরা সুবিচারের দাবি জানান। গোটা গ্রাম এখনও ফুঁসছে সুবিচারের দাবিতে। এদিন পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এদিন তিনি কার্যত হুঁশিয়ারীর সুরে বলেন, “এই খুন মেনে নেব না। কারণ পরিবারটা খুবই ভালো। এদের কোনও শত্রু ছিল না। যেই খুন করুক, বিজেপি যদি মনে করে তৃণমূল চুপচাপ থাকবে। তবে কেষ্ট মন্ডল চুপচাপ থাকবে না।” তিনি বলেন,” ১৫ দিনের মধ্যে আসামী ধরা না পড়লে ভয়ঙ্কর খেলা খেলে দিয়ে যাবো। কোনও কাহিনী শুনব না। কোনও অশান্তি চাই না। কেউ যদি অশান্তি চায়, তাহলে চ্যালেঞ্জ।” দলের কেউ যদি জড়িত থাকে সাংবাদিকরা পাল্টা প্রশ্ন করলে, সপাটে তিনি বলেন, “দলের কেউ জড়িত হলে গুলি করে মেরে দেওয়া উচিত।”
অন্যদিকে অনুব্রত মন্ডলের ওপর আস্তা রেখেও এদিন রীতিমতো বিদ্রোহের হুঁশিয়ারি দিলেন দেবশালা পঞ্চায়েতের প্রধান তথা মৃতের বাবা শ্যামল বক্সী। তিনি স্পষ্ট বলেন, “বিচার চাই। বিচার যদি না পাই, তাহলে এই দলটা করে কি লাভ? বিচার না পেলে পদত্যাগ করব। পঞ্চায়েতের বোর্ড ভেঙে দেব। ১০ জন সদস্য একসঙ্গে ইস্থফা দেব।”
তবে বিজেপির জড়িত থাকার প্রশ্ন তুলতেই তিনি বলেন, “বিজেপি একসময় দাপিয়ে বেড়ালেও এখন আর নেই। তারা একাজ করতে পারে বলে মনে হয় না। তবে পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করুক।” শ্যামলবাবুর এই বক্তব্যে কার্যত বিড়ম্বনায় পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু চলছে।

