সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১১ জুন: হাওড়ার ডোমজুড়ের ঘটনায় সেনা নামানোর কথা বললেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ পুরুলিয়ায় দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে ডোমজুড়ের ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, “এই রাজ্যেই রিজ কাণ্ডে মুখ্যসচিব সেনা নামিয়েছিলেন। বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমি রাজ্যপালকে বলেছি হাওড়া কাণ্ডে সেনা নামাতে মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিন।”

প্রসঙ্গত, নবী বিতর্কে হাওড়ায় বিক্ষোভ-অবরোধের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে অমিত শাহকে চিঠি লেখেন সৌমিত্র খাঁ। বিজেপি সাংসদ ও রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে জানিয়েছেন, হাওড়ার একাধিক এলাকায় কার্ফু জারি করা হয়েছে। বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হোক।
এদিন হাওড়ার ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার সমালোচনা করে শুভেন্দু বাবু বলেন, “পরশুদিন হাত জোড় করেছিলেন আর সমান তালে উস্কেছেন। এটা ভোট ব্যাঙ্ককে ধরে রাখার রাজনীতির জন্য করছেন। সিএএ নিয়েও রাজ্যে মিছিল করে জ্বালিয়েছেন।” মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি বিজেপি নেতা শুভেন্দু। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বাঘের পিঠে চেপেছেন। নামলেও খাবে আর উপরে উঠে থাকলেও যাবে। উপায় আর নেই। আপনার নাগালের বাইরে চলে গেছে।”

এই পরিস্থিতিতে সর্বদলীয় বৈঠক প্রসঙ্গ সংবাদমাধ্যম উত্থাপন করলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা প্রথমে এড়িয়ে গেলেও সরাসরি না করেননি। তিনি অবশ্য বলেন, তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলকে স্বীকৃতি দিতে জানেন না। উনার কাছে বসে ফিশ ফ্রাই খেয়ে বিমানবাবু যেমন করেছিলেন ওইসব করতে আমি রাজি নই। যদি মুখ্য সচিব ডাকেন, যদি রাজ্যপাল ডাকেন, কোন একটা নিরপেক্ষ সাংবিধানিক চেয়ার থেকে কেউ ডাকেন তবে নিশ্চিতভাবে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি যুক্ত হবে।”
আজ পুরুলিয়ার বলরামপুরে দলীয় জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ছিলেন দুই সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ও জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। স্থানীয় সরাই ময়দানে ওই সভায় তাঁদের বক্তব্যে আগাগোড়াই আক্রমণের নিশানা ছিল তৃণমূল তথা রাজ্য সরকার।

