“বিতর্কের উপর দাঁড়ি টেনে দিলাম, আর পারছি না,“ টুইট তথাগত রায়ের

বিশেষ প্রতিনিধি, আমাদের ভারত, ৯ নভেম্বর: ঘরে-বাইরে হরেক বিতর্কের পর এবার দলের নেতাদের সমালোচনা করে টুইট করা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিজেপি-র প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায়। তিনি আজ জানান, বিতর্কের উপর দাঁড়ি টেনে দিলেন।

নির্বাচনের পর থেকে একের পর এক টুইটে দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন তথাগত রায়। তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক হয়েছে, অস্বস্তিতে পড়েছে দল। কিন্তু দলীয়স্তরে তাঁর সমালোচনার জবাব কেউ দেননি। গতকালই এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার শ্রদ্ধার সঙ্গে বলেন, তিনি আমাদের একজন প্রবীন নেতা কিন্তু দলের কোনও দায়িত্বে তিনি নেই। এর পরেই আজ তথাগতবাবুর টুইট এবং তাতে তিনি জানিয়ে দেন যে তিনি আর সমালোচনা করবেন না। তবে এর আগে যে সমালোচনা তিনি করেছেন তা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার বলে জানিয়েছেন। ভোটে পরাজয়ের পর সেটা সব দলেই তা হয় এবং সেই ভাবেই দল এগিয়ে যায়। তবে, এবার থেকে তিনি যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাবেন তার ইঙ্গিতও দিয়েছেন দ্বিতীয় টুইটে।

মঙ্গলবার সকালে প্রথমে তিনি টুইটে লেখেন, “দলের ভিতরের কলহ বাইরে কেন— এই বলে যাঁরা মহা বিচলিত ভাব দেখাচ্ছেন তাঁদের বলি, রাজনীতিতে এরকম হয়ে থাকে। সিপিএমের মত প্রচন্ড অনুশাসনবদ্ধ দলেও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিনয় চৌধুরী প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে বলেছেন। তৃণমূলের কুনাল তো চিৎকার করে মমতার গ্রেপ্তার দাবি করেছিল! কংগ্রেসকর্মীরা তো প্রকাশ্যে সর্বভারতীয় সর্বোচ্চ নেতাদের ধুতি খুলে দেবার মত অসম্মান করেছে!
তবে গতকাল অবতারবরিষ্ঠ ঠাকুর রামকৃষ্ণ ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ অশিক্ষিত ছিলেন— এই কথা শোনার পরে এই বিতর্কের উপর দাঁড়ি টেনে দিলাম। আর পারছি না!“

এর এক ঘন্টা বাদে তথাগতবাবু লেখেন, “বিজেপির ভিতরে বাদানুবাদ নির্বাচন-বিপর্যয়ের পরবর্তী মন্থনের অঙ্গ, সাময়িক ব্যাপার। তা থেকে কেউ যদি ভাবেন বিজেপি উঠে যাবে তবে তা দিবাস্বপ্ন। মতাদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত পার্টি টিকে থাকে যতদিন সেই মতাদর্শের প্রাসঙ্গিকতা থাকে। এক-নেতাকে ঘিরে আবর্তিত পার্টি সেই নেতার অবর্তমানে উঠে যায়। তবে আসল প্রশ্ন, উঠে যাবার আগে তৃণমূল পশ্চিমবাংলার ও বাঙালি হিন্দুর কতটা ক্ষতি করতে পারবে ? এবং সেই ক্ষতি পূরণীয় না অপূরণীয়?“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *