ঠেলায় পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে! বিড়ালকে গাছে তুলেছি, এবার গদিটাও নিয়ে নেব, মমতাকে চুড়ান্ত কটাক্ষ সুকান্ত’র

আমাদের ভারত, ১০ নভেম্বর: বঁনগায় গিয়ে আজ ফের ২০২৪-এর আগেই সিএএ লাগু হবে বলে জোরের সঙ্গে জানিয়ে দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসকে বিড়ালের সাথে তুলনা করে করে তিনি বলেন, বিড়ালকে গাছে তুলেছি, এবার বিড়ালের গদিটাও নিয়ে নেব।

কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বালুরঘাটের সাংসদ রাজ্যের শাসক দলের উদ্দ্যেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি স্প্রিংয়ের মতো, যত জোরে মারবেন উল্টো দিক থেকে সে তত জোরে এসে ঘুসি দেবে। তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির কর্মীদের মারধর করে ঘরে ঢুকিয়ে দিতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেটা হয়নি। আজ দলে দলে মানুষ বিজেপিতে যোগদান করছেন।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, মতুয়াদের জন্য জীবন দিয়ে দেবো। নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে দেব না। এর পাল্টা দিতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী জীবন দিয়ে কোন কাজ নেই। আপনার জীবনে দু পয়সাও দাম নেই। আপনি বরং ১০০ বছর বাঁচুন। ভারতীয় জনতা পার্টি পশ্চিমবঙ্গকে রবি ঠাকুরের সোনার বাংলা বানাবে। সেটা স্বচোখে দেখুন।”

মতুয়াদের নাগরিকত্ব পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাম মন্দির নিয়ে যেমন আমরা কোনো আপোষ করিনি। মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ইস্যুটাও ঠিক তেমনি।” তার আশ্বাস, “আমরা সমস্ত উদ্বাস্তুদের এখানে জায়গা দেব।” অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বিভ্রান্ত করতে, সিএএর সাথে এনআরসিকে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আমরা সিএএ এর কথা বলছি। আর সিএএ নাগরিকত্ব কেড়ে নেয় না নাগরিকত্ব দেয়।

এদিন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদলের বিতর্ক ফের তোলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। বলেন, চাপে পরে এখন বাংলা সড়ক যোজনার নাম মুছে মুছে প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা করা হচ্ছে। ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘুম উড়ে গেছে মুখ্যমন্ত্রীর। তৃণমূল সরকারকে বিড়ালের সাথে তুলনা করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না। বিড়ালকে গাছে তুলেছি এবার বিড়ালকে ঘরছাড়া করব। গদিটাও নিয়ে নেব।

তিনি বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি নীতি আদর্শের দল। আমরা কোন ব্যক্তিকে দেখে চোখের চলি না। আর এটাকেই আরও সহজে প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস” মন্ত্রের মধ্যে দিয়ে।

তিনি মনে করিয়ে দেন, নরেন্দ্র মোদীর জন্যেই কোটি কোটি দেশবাসী করোনা ভ্যাকসিন পেয়েছে। সেই জন্য হাজার হাজার কোটি কোটি মানুষ আজ সুরক্ষিত রয়েছে। অথচ এই ভ্যাকসিনের বিরোধিতা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু করোনা যখন ব্যপক আকার নেয় তখন তার দলের নেতারাই সবার আগে ভ্যাকসিন নিতে দৌড়ান। তাই দিদি এবং ভাইদের গায়ে যে ভ্যাকসিন ঘুরে বেড়াচ্ছে তার নাম মোদী ভ্যাকসিন।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোদী এবং অমিত শাহ রাজ্যে এলে তাদেরকে তৃণমূল বহিরাগত কটাক্ষ করতো। কিন্তু সুকান্ত মজুমদার বলেন, করোনার ভ্যাকসিনটাও তো বহিরাগত। সেটা তো পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয়নি। তাহলে সেটা কি করে নিলেন তৃণমূলের লোকজন। তিনি বলেন,” আমরা বহিরাগত তত্ত্বে বিশ্বাস করি না। আমরা মনে করি গোটা দেশ এক।”

“রনে বনে জলে জঙ্গলে যেখানে সুযোগ পাইবে কাটমানি খাইবে”। লোকনাথ ব্রহ্মচারীর মন্ত্রকে নকল করে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের এইভাবে কটাক্ষ করেন আজ সুকান্ত। তিনি বলেন রাজ্যের দুর্নীতির পাহাড়ে আজ মানুষ বিভ্রান্ত। মাস্টার মশাই দিদিমনিদের সম্মান নেই। কোন মাস্টার মশাই যদি ভুল করে কোনো অঙ্ক ভুল কষে ফেলেন তাহলে ছাত্ররা আলোচনা করে এটা এসএসসির মাস্টার নাকি মানিকের মাস্টার। মাস্টারমশাই দিদিমণি কারো সম্মান নেই সবাই বিক্রি হয়ে গেছে। সবকিছু বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল।
তিনি বলেন, রাজ্যে যুব সমাজ বেকারত্বের জ্বালায় জ্বলছে। তাই তো ধান রোয়ার কাজ করতে রাজ্যে আদীবাসী মহিলাকে তেলেঙ্গানায় গিয়ে সাপের কামড়ে মরতে হচ্ছে। সুকান্ত আশ্বস্ত করেন, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে, অনলাইন পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবে। তাতে একমাত্র মেধাই হবে চাকরি পাওয়ার মাপকাঠি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *