আমাদের ভারত, ১ জুন: সামাজিক মাধ্যম জুড়ে উপচে পড়ছে শোকবার্তা কেকে এর জন্য এদিন কবি, গীতিকার, পরিচালক শ্রীজাত ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট লেখেন ‘হাম রহে ইয়া না রহে কাল’। কে কে-র প্রয়াণে নিজের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরলেন কবি।
তিনি লেখেন, কে কে-র গান আমার অসহ্য লাগে। গত ১৬ বছর ধরে অসহ্য লাগে। সেই ২০০৬-এর ডিসেম্বর থেকে আজ অবধি কে কে-র গান আমি সহ্য করতে পারি না। ক্যাব-এর রেডিও-তে হঠাৎ বেজে উঠলে চালককে তৎক্ষণাৎ বলি চ্যানেল সরিয়ে দিতে, কোনও জমায়েতে হুট করে বেজে উঠলে সন্তর্পণে উঠে বাইরে চলে যাই। এতটাই অসহনীয় আমার কাছে, কে কে-র গান, গত ১৬ বছর ধরে। টানা ১৬ বছর, আমি কে কে-র গান শুনিনি। সত্যি বলতে কী, পালিয়েছি তাঁর কাছ থেকে।”
কে কে নয় তিনি আদতে পালিয়ে বেরিয়েছেন তাঁর অকালে চলে যাওয়া ভাইয়ের কাছ থেকে। জনসমক্ষে কোনওদিন নিজের সেই যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেননি। তবে কেকে-র আকস্মিক মৃত্যু আজ তাঁকে বড্ড নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি জানান, ‘‘ব্যক্তিগত ক্ষয়ের কথা, আন্তরিক ক্ষরণের কথা সমক্ষে তুলে ধরিনি কখনওই, জীবনের প্রতি সংকোচ আর স্মৃতির প্রতি সম্ভ্রম থেকেই। কিন্তু আজ যেন সেই সব আগল ভেঙে গেল।“
কবি জানান, এক বাইক দুর্ঘটনায় আচমকাই প্রয়াত হন তাঁর ভাই পুশকিন। সে ছিল কেকে-র অন্ধভক্ত। তারপর থেকেই কেকে-কে ‘শত্রু’ বানিয়েছিলেন তিনি। কেকে-র গান ছিল তাঁর ‘দু’চোখের বিষ’।
শ্রীজাতর ছোট ভাই পুশকিনের প্রিয় গায়ক ছিলেন কে কে। শ্রীজাত লিখেছেন, “আর তার হাত ধরে আমারও। গিটারে তার হাত চলাফেরা করত চমৎকার, আর সুরে গলাও খেলত দিব্যি। তার পড়াশোনা আর পরীক্ষার চাপের ফাঁকে ফাঁকে আমি তাকে জোর করে বসাতাম, ‘গান শোনা দেখি দু’খানা’। এমন বললে সে দু’খানা গানই গেয়ে উঠত কেবল। ‘ইয়ারোঁ, দোস্তি বড়ি হি হসীন হ্যায়’, আর ‘হম রহেঁ ইয়া না রহেঁ কল, কল ইয়াদ আয়েঙ্গে ইয়ে পল।”
শ্রীজাত লেখেন- “কে কে আসছেন শুনেই নজরুল মঞ্চের কাছাকাছি দিয়ে যাতায়াতের পথ বাছিনি আজ। কে বলতে পারে, যদি ‘ইয়ারোঁ, দোস্তি…’-র এক কলিও কানে ঢুকে আসে? পালিয়েছি আজও। কেবল বুঝিনি, তাঁরও পালানোর মতলব আছে, পুশকিনের মতোই।”
পোস্ট করার ১৩ ঘন্টা বাদে বুধবার বেলা ২টো ২৫-এ শ্রীজাতর এই পোস্টে লাইক, মন্তব্য ও শেয়ারের সংখ্যা হয়েছে যথাক্রমে ২২ হাজার, ১ হাজার ৬০০, ২ হাজার ২০০।

