সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৯ নভেম্বর: শতাধিক ভুয়ো অস্থায়ী কর্মচারীকে চিহ্নিত করে তাঁদের ছাঁটাই করতে উদ্যোগী হল পুরুলিয়া পুরসভার প্রশাসনিক বোর্ড। ১৬০০ কর্মীর মধ্যে শতাধিক ভুয়ো চিহ্নিত হলেও আরও সংখ্যা বাড়বে বলে জানালেন বোর্ডের চেয়ারম্যান নবেন্দু মাহালি। আজ কর্মচারী সংগঠনের চাপে পড়ে ছাঁটাইয়ের কথা বললেও বাস্তবে তা অসম্ভব বলে মনে করছেন শহর তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ। তাঁদের যুক্তি সামনেই পুর নির্বাচন। গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব আর গত নির্বাচনে ফলাফল খুবই খারাপ হওয়ায় ডামাডোল অবস্থা। এর মধ্যে কর্মী ছাঁটাই গোদের উপর বিষ ফোঁড়া না হয়ে দাঁড়ায়। তবে, প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তৃণমূল পরিচালিত পুরুলিয়া পুরসভায় ভুয়ো কর্মী কীভাবে হল? তাঁদের হয়ে বেতন কীভাবে হতো? এই নিয়ে অবশ্য বিজেপি, কংগ্রেস বা বামেরা কোনও দিন খোঁজ খবর নেয়নি। আদতে এই কাজ করার জন্য পরোক্ষভাবে মদত করেছে বলে মনে করছেন পুরবাসী।

এই পরিস্থিতিতেই আজ ১৭ দফা দাবি নিয়ে পুরুলিয়া পৌরসভার প্রশাসকের কার্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ডেপুটেশন দিল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন ও পশ্চিমবঙ্গ পৌর কর্মচারী ফেডারেশন। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক আশীষ দে’র নেতৃত্বে প্রায় ৩০০ অস্থায়ী ও স্থায়ী শ্রমিকরা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের মূল দাবি বেতন বৈষম্য দূর করতে হবে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই পৌরসভায় অস্থায়ীভাবে কাজ করলেও বেতন বাড়েনি। কাজে যোগ দেওয়ার সময় কোনও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। এদিন তাঁরা নিয়োগপত্রের দাবি করেন। পৌরসভার অস্থায়ী কর্মচারীদের কোনও পরিচয়পত্র নেই। তাই পরিচয়পত্র দেওয়ার দাবি জানান বিক্ষোভরত কর্মচারীরা। কোনও অস্থায়ী কর্মচারীদের মৃত্যু হলে তার পরিবারকে এককালীন ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার দাবী করেন। এছাড়াও সমস্ত অস্থায়ী কর্মচারীদের পিএ চালু করা ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি দাবি নিয়ে ডেপুটেশন দেন।
উল্লেখ্য, এই পৌরসভায় ১৬০০ অস্থায়ী কর্মচারীর ওপরই নির্ভর সাফাই অভিযান থেকে পানীয় জলের ব্যবস্থা, সব অস্থায়ী কর্মীরা করেন।১০-১৫ বছর ধরে এই পৌরসভায় কাজ করলেও বেতন সেভাবে বাড়েনি। বার বার আবেদন করার পরেও কোনও সুরাহা
হয়নি। কর্মচারী সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক বলেন, এই পৌরসভায় যদি কোনও ভুয়ো অস্থায়ী কর্মী থাকেন তাদেরকে চিহ্নিত করে ছাঁটাই করে বের করতে হবে।

পৌর প্রশাসক নবেন্দু মাহালি বলেন, বেশ কিছু দাবি আছে যে গুলোর মধ্যে কয়েকটির কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে। তিনিও এই ভুয়ো অস্থায়ী কর্মীর কথা মেনে নিয়ে বলেন, এখনো পর্যন্ত ১০০ ভুয়ো কর্মীর সন্ধান পাওয়া গেছে, আরও কিছু বাড়তে পারে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

