স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৭ এপ্রিল: পণের দাবিতে গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ উঠলো স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। রবিবার এই ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে থানা ও হাসপাতাল চত্ত্বরে বিক্ষোভ দেখান মৃতের পরিজন ও গ্রামবাসীরা। এনিয়ে দুবার দুই স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ মৃতার স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রীতিমত তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় রায়গঞ্জে।

মৃত ঐ গৃহবধূর নাম মামণি বর্মন। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, দু’বছর আগে কাশিবাটি এলাকার বাসিন্দা অমল বর্মনের সাথে বিয়ে হয় মামণির। বিয়ের পর থেকেই মামণির উপর অত্যাচার চালাতো তাঁর স্বামী। বাবার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য মারধরও করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের।অত্যাচার এতটাই চলতো যে বেশ কয়েকবার শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িও চলে গিয়েছিল মামণি। এসবের মাঝেই শনিবার রাতে মামণির বাড়ির লোকজন জানতে পারেন মামণি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বাড়ির লোক ছুটে গেলে মামণিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এরপরই তারা হাসপাতালে ও থানায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। মৃতার স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন মিলিয়ে পাঁচজনের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে তারা বিক্ষোভ দেখায়। তাদের আরো অভিযোগ, বছর কয়েক আগে অমল তার আগের পক্ষের স্ত্রীকেও হত্যা করে সব লুকিয়ে মামণিকে বিয়ে করেছিল। এবারেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল বলে অভিযোগ তুলে সরব হন গ্রামবাসীরা। ঘটনায় ইতিমধ্যেই একজনকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে।

মৃতার ভাই কৌশিক বর্মনের অভিযোগ, গতকাল তাঁরা হাসপাতালে এসে দেখেন তার দিদিকে মৃত অবস্থায় শ্বশুরবাড়ির লোক জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে। শ্বশর বাড়ির লোকেরা তার দিদিকে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রবিবার মৃতদেহের ময়না তদন্ত করে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

