স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১০ মার্চ: পণের দাবিতে গৃহবধূকে বেধড়ক মারধর করে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রাখা হল বাড়িতে। শ্বশুর বাড়ি থেকে কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে এসে শান্তিপুর থানার দ্বারস্থ গৃহবধূ। শান্তিপুর থানার বোয়ালিয়া অঞ্চলের ঘটনা।
আক্রান্ত গৃহবধূ অর্পিতা সরকারের অভিযোগ, দু’বছর আগে তাঁর বিয়ে হয় শান্তিপুরের বোয়ালিয়া অঞ্চলের অনজিৎ বিশ্বাস এর সাথে। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার চালাচ্ছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দিনের পর দিন তার ওপর নির্মম অত্যাচার হয়। এর আগেও বেশ কয়েকবার তাঁকে মারধর করে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পারিবারিক মধ্যস্থতায় আবার শ্বশুরবাড়ি ফিরে যায় অর্পিতা সরকার। গতকাল রাতে পণের টাকা এবং মোটরসাইকেল সহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে গৃহবধূর ওপর চড়াও হয় তার শাশুড়ি এবং স্বামী। অভিযোগ, সেই সময় ধাতব বস্তু দিয়ে মারধর করা হয় গৃহবধূকে, সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে পড়ে থাকে গৃহবধূ।পরে জ্ঞান ফিরে এলে সকাল বেলায় শ্বশুর বাড়ি থেকে পালিয়ে শান্তিপুর থানার দ্বারস্থ হয় গৃহবধূ অর্পিতা সরকার।

আক্রান্ত অর্পিতা সরকার শান্তিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তিনি আর সংসার করতে চান না ওই পরিবারের সঙ্গে। দিনের পর দিন তাঁকে যেভাবে মারধর করা হচ্ছে পরবর্তীতে তার প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে, সেই কারণেই তিনি আর সংসার করতে চান না এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছেন অর্পিতা সরকার। ওই গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ।

