পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৩ জুলাই: কুড়ি লাখ টাকার জন্যই স্বামীকে খুন করা হয়েছে, বিশিষ্ট আইনজীবী তথা তৃণমূল নেতা শেখর দাসগুপ্ত’কে বললেন নিহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী মুক্তি কর্মকার। মঙ্গলবার হিলির জোত তিওড়ে মৃত স্বর্ণব্যবসায়ীর বাড়িতে গিয়ে শোকার্ত পরিবারের সাথে কথা বলেন তৃণমূল নেতা শেখর দাশগুপ্ত। যেখানে হাজির ছিলেন ব্লকের যুবনেতা সুদীপ মহন্ত সহ বেশকিছু স্থানীয় নেতৃতারা। সাতসকালে হাতের কাছে জেলার অন্যতম আইনজীবীকে পেয়ে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবির পাশাপাশি ওইদিন রাতের ভয়ঙ্কর ঘটনার ব্যাখ্যাও করেন তিনি।
মুক্তি কর্মকার বলেন, টাকা ছিনতাই করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল। হালখাতা করে ওইদিন রাতে দোকান থেকে তারা কুড়ি লাখ টাকা নিয়ে ফিরছিল এমন খবর তাদের কাছে আগে থেকেই ছিল। বাইকে করে বাড়ির দিকে রওনা হতেই মোটর বাইক নিয়ে পিছু নেয় ওই দুষ্কৃতিরা। বাড়ির কিছুটা আগে তাদের পথ আটকে ব্যাগ টানাটানি করে ব্যাগের ফিতেও ছিঁড়ে ফেলে তারা। অনেকগুলো ব্যাগ থাকলেও তারা নিমেষে তার স্বামীকে গুলি করে একটি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। সেই সময়ই তাদের মুখ থেকে ওই কুড়ি লাখ টাকার কথা শুনতে পান তিনি। এদিন তিনি আরো জানান, নৃশংস ভাবে তাঁর স্বামীকে যারা খুন করেছে পুলিশ তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুক।
তৃণমূল নেতা শেখর দাসগুপ্ত বলেন, এই বিধানসভার প্রার্থী হিসাবে তার একটা দায়িত্ব থেকেই তিনি এখানে ছুটে এসেছেন। অত্যন্ত অমানবিক ঘটনা। পরিবারটিকে সমস্ত রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির জন্য সবরকম আইনী পরামর্শও দেবেন।
উল্লেখ্য, হিলির জোত তিওড়ের বাসিন্দা পেশায় স্বর্ণব্যবসায়ী প্রদীপ কর্মকার। শুক্রবার রাতে দোকানের হালখাতা সেরে স্ত্রীকে বাইকে বসিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেইসময় বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে দুষ্কৃতিরা মোটর বাইকে চেপে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় কিছুক্ষণ পরেই মৃত্যু হয় তার। যদিও ঘটনার পরেই তার স্ত্রী দাবি করেছিলেন টাকার ব্যাগ নিয়ে যেতে পারেনি দুষ্কৃতিরা। এদিকে এই ঘটনায় ইতিমধ্যে পুলিশ এক বিজেপির যুব নেতা সহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করে তাদের হেফাজতে নিয়েছে।

